ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অ্যাপলের নতুন সিইও টার্নাসের বেতন, কুকের আয় কমল কত?

অ্যাপলের সিইও পদে বসেই বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক প্যাকেজ পাচ্ছেন জন টার্নাস। অন্যদিকে, ১৫ বছর সিইওর দায়িত্ব পালন করা টিম কুক পদ ছাড়ার পর নতুন ভূমিকায় যাচ্ছেন।

সেই সঙ্গে কমেছে তার পারিশ্রমিকও। নতুন সিইও টার্নাস ও কুকের পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাপল। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

নতুন প্যাকেজ অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে টার্নাসের লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক মোট পারিশ্রমিক প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৫১ কোটি রুপি। তবে এই অর্থ পুরোটা বেতন নয়। এর মধ্যে রয়েছে মূল বেতন ও শেয়ার পুরস্কার।

অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের বার্ষিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ ডলার।

এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরে তিনি প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার পাবেন।

এই শেয়ার পুরস্কারের ৭৫ শতাংশ হবে কর্মদক্ষতাভিত্তিক। অর্থাৎ অ্যাপলের শেয়ার পারফরম্যান্স এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কেমন করছে, তার ওপর এর বড় অংশ নির্ভর করবে।

বাকি ২৫ শতাংশ হবে সময়ভিত্তিক সীমিত শেয়ার ইউনিট বা RSU। চার বছর ধরে প্রতি ছয় মাসে নির্দিষ্ট অংশ করে এসব শেয়ার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ২০২৬ অর্থবছরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের জন্য টার্নাসকে প্রায় ২৫ লাখ ডলার মূল্যের প্রোরেটেড RSU দেওয়া হচ্ছে।

সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে বিদায় নিচ্ছেন না টিম কুক। তিনি এখন প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন পদে কুকের বার্ষিক মূল বেতন হবে ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সিইও থাকাকালে তার মূল বেতন ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল বেতন কমেছে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরে কুক পাবেন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক পারিশ্রমিক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

২০২৫ সালে সিইও হিসেবে কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বেতন, ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কর্মদক্ষতাভিত্তিক নগদ পুরস্কার এবং প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ৭০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার।

নতুন দায়িত্বে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক প্যাকেজ ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট পারিশ্রমিকের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। তবে দুই বছরের পারিশ্রমিক কাঠামো পুরোপুরি এক নয়। তাই এটিকে সরাসরি বেতন কমার হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

এর মূল কারণ কুক ও টার্নাসের দায়িত্বের পরিবর্তন। টার্নাস এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে। অন্যদিকে কুক এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে কৌশলগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কুকের নতুন শেয়ার পুরস্কারের ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতাভিত্তিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ সময়ভিত্তিক। এই শেয়ারগুলোও চার বছর ধরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।

জন টার্নাসের হাতে অ্যাপলের সিইওর দায়িত্ব যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। এই শতকে এটি অ্যাপলের মাত্র দ্বিতীয় সিইও পরিবর্তন।

২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিম কুক। প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার তিনি নতুন ভূমিকায় গেলেন।

এদিকে নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের সামনে রয়েছে এআই, নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ পণ্য নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপল কোন পথে এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

অ্যাপলের নতুন সিইও টার্নাসের বেতন, কুকের আয় কমল কত?

আপডেট সময় ০৭:৩০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অ্যাপলের সিইও পদে বসেই বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক প্যাকেজ পাচ্ছেন জন টার্নাস। অন্যদিকে, ১৫ বছর সিইওর দায়িত্ব পালন করা টিম কুক পদ ছাড়ার পর নতুন ভূমিকায় যাচ্ছেন।

সেই সঙ্গে কমেছে তার পারিশ্রমিকও। নতুন সিইও টার্নাস ও কুকের পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাপল। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

নতুন প্যাকেজ অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে টার্নাসের লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক মোট পারিশ্রমিক প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৫১ কোটি রুপি। তবে এই অর্থ পুরোটা বেতন নয়। এর মধ্যে রয়েছে মূল বেতন ও শেয়ার পুরস্কার।

অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের বার্ষিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ ডলার।

এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরে তিনি প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার পাবেন।

এই শেয়ার পুরস্কারের ৭৫ শতাংশ হবে কর্মদক্ষতাভিত্তিক। অর্থাৎ অ্যাপলের শেয়ার পারফরম্যান্স এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কেমন করছে, তার ওপর এর বড় অংশ নির্ভর করবে।

বাকি ২৫ শতাংশ হবে সময়ভিত্তিক সীমিত শেয়ার ইউনিট বা RSU। চার বছর ধরে প্রতি ছয় মাসে নির্দিষ্ট অংশ করে এসব শেয়ার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ২০২৬ অর্থবছরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের জন্য টার্নাসকে প্রায় ২৫ লাখ ডলার মূল্যের প্রোরেটেড RSU দেওয়া হচ্ছে।

সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে বিদায় নিচ্ছেন না টিম কুক। তিনি এখন প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন পদে কুকের বার্ষিক মূল বেতন হবে ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সিইও থাকাকালে তার মূল বেতন ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল বেতন কমেছে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরে কুক পাবেন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক পারিশ্রমিক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

২০২৫ সালে সিইও হিসেবে কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বেতন, ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কর্মদক্ষতাভিত্তিক নগদ পুরস্কার এবং প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ৭০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার।

নতুন দায়িত্বে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক প্যাকেজ ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট পারিশ্রমিকের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। তবে দুই বছরের পারিশ্রমিক কাঠামো পুরোপুরি এক নয়। তাই এটিকে সরাসরি বেতন কমার হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

এর মূল কারণ কুক ও টার্নাসের দায়িত্বের পরিবর্তন। টার্নাস এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে। অন্যদিকে কুক এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে কৌশলগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কুকের নতুন শেয়ার পুরস্কারের ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতাভিত্তিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ সময়ভিত্তিক। এই শেয়ারগুলোও চার বছর ধরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।

জন টার্নাসের হাতে অ্যাপলের সিইওর দায়িত্ব যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। এই শতকে এটি অ্যাপলের মাত্র দ্বিতীয় সিইও পরিবর্তন।

২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিম কুক। প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার তিনি নতুন ভূমিকায় গেলেন।

এদিকে নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের সামনে রয়েছে এআই, নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ পণ্য নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপল কোন পথে এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ