ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় যমুনায় ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি

বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে গত কয়েকদিন ধরেই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি ও আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য আবাদ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ভাঙছে বসতভিটা ও নদীর পাড়। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক এবং নদীপাড়ারে মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জানা যায়, বগুড়ার এই তিন উপজেলায় যমুনায় পানি বৃদ্ধির প্রবল স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। এতে তীরের মাটি ও বালুর স্তূপ ধসে পড়ছে নদীতে। বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী ফসলি জমি ও শত শত বছরের লোকালয়। ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র সবচেয়ে বেশি ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মাঝামাঝি প্রায় ২০০ মিটার এলাকায়। যমুনার প্রবল ভাঙনে এখানকার শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক বিঘা আবাদি জমি। যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে শহড়াবাড়ি গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। শুরু ফসলি নয় তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের ফসল। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। সোমবার সারিয়াকান্দিতে ৯ সকাল পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি পানি ১৫ দশমিক ৮৩ মিটার সমতায় প্রচাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে যমুনা ও বাঙালি নদীবেষ্টিত সোনাতলা উপজেলার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। ওই উপজেলার নদীকূলীয় এলাকার শত শত একর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার তেকানী চুকাইনগর, পাকুল্যা ও সোনাতলা সদর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি চরের শত শত কৃষকের স্বপ্ন পানিতে মিশে যাচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে যমুনা নদীর তীরবর্তী অংশের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিং করে ভাঙন ঠোকানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় যমুনায় ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি

আপডেট সময় ০৩:২৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে গত কয়েকদিন ধরেই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি ও আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য আবাদ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ভাঙছে বসতভিটা ও নদীর পাড়। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক এবং নদীপাড়ারে মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জানা যায়, বগুড়ার এই তিন উপজেলায় যমুনায় পানি বৃদ্ধির প্রবল স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। এতে তীরের মাটি ও বালুর স্তূপ ধসে পড়ছে নদীতে। বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী ফসলি জমি ও শত শত বছরের লোকালয়। ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র সবচেয়ে বেশি ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মাঝামাঝি প্রায় ২০০ মিটার এলাকায়। যমুনার প্রবল ভাঙনে এখানকার শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক বিঘা আবাদি জমি। যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে শহড়াবাড়ি গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। শুরু ফসলি নয় তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের ফসল। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। সোমবার সারিয়াকান্দিতে ৯ সকাল পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি পানি ১৫ দশমিক ৮৩ মিটার সমতায় প্রচাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে যমুনা ও বাঙালি নদীবেষ্টিত সোনাতলা উপজেলার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। ওই উপজেলার নদীকূলীয় এলাকার শত শত একর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার তেকানী চুকাইনগর, পাকুল্যা ও সোনাতলা সদর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি চরের শত শত কৃষকের স্বপ্ন পানিতে মিশে যাচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে যমুনা নদীর তীরবর্তী অংশের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিং করে ভাঙন ঠোকানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ