ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বিমসটেকের নির্দেশনামূলক নীতিমালা

সমুদ্রে পারস্পরিক যোগাযোগের সময় সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নির্দেশনামূলক নীতিমালা অনুমোদন করেছেন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনভুক্ত (বিমসটেক) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানরা।

রোববার (১৯ জুলাই) বিমসটেক সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম বৈঠকে এই নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (এইচএডিআর)-এর সামুদ্রিক উপাদান সম্পর্কিত বিমসটেক নির্দেশিকাও গৃহীত হয়। এর ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো দ্রুত ও সমন্বিতভাবে আঞ্চলিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকটি আয়োজন ও সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এতে বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা প্রতিনিধিদলের প্রধানরাও অংশ নেন।

বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে আঞ্চলিক জোটটির নিরাপত্তা সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি আগের বৈঠকের পর থেকে প্রচলিত, অপ্রচলিত ও উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত অগ্রগতির বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবহিত করেন।

ইন্দ্র মণি পান্ডে তার উপস্থাপনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের সময়মতো বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় জোরদার, জ্ঞান বিনিময় বৃদ্ধি এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সাইবার, সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সংযোগ বৃদ্ধি, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ও উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকের ফাঁকে বিমসটেক মহাসচিব ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, নেপালের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় এবং বিমসটেক কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিমসটেকের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বিমসটেক বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশ- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বিমসটেকের নির্দেশনামূলক নীতিমালা

আপডেট সময় ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সমুদ্রে পারস্পরিক যোগাযোগের সময় সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নির্দেশনামূলক নীতিমালা অনুমোদন করেছেন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনভুক্ত (বিমসটেক) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানরা।

রোববার (১৯ জুলাই) বিমসটেক সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম বৈঠকে এই নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (এইচএডিআর)-এর সামুদ্রিক উপাদান সম্পর্কিত বিমসটেক নির্দেশিকাও গৃহীত হয়। এর ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো দ্রুত ও সমন্বিতভাবে আঞ্চলিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকটি আয়োজন ও সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এতে বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা প্রতিনিধিদলের প্রধানরাও অংশ নেন।

বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে আঞ্চলিক জোটটির নিরাপত্তা সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি আগের বৈঠকের পর থেকে প্রচলিত, অপ্রচলিত ও উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত অগ্রগতির বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবহিত করেন।

ইন্দ্র মণি পান্ডে তার উপস্থাপনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের সময়মতো বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় জোরদার, জ্ঞান বিনিময় বৃদ্ধি এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সাইবার, সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সংযোগ বৃদ্ধি, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ও উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকের ফাঁকে বিমসটেক মহাসচিব ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, নেপালের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় এবং বিমসটেক কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিমসটেকের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বিমসটেক বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশ- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ