নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম কি লিওনেল মেসির জন্য অভিশপ্ত? এই সেই মাঠ যেখানে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এক দশক আগে যে কান্না পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, ভাগ্য আবারও সেই মাঠেই কাঁদালো মেসিকে।
এই বিশাল স্টেডিয়ামটিই রোজারিওর সন্তান মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতির সাক্ষী। এই মাঠেই প্রথমবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। আবারও জেগে উঠলো বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা সেই ক্ষত।
মেসি প্রথমবার কেঁদেছিলেন ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে। সেবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টাইব্রেকারে চিলির মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর সেই লড়াই শেষ হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনকভাবে।
টাইব্রেকারে নিজের শটটি মিস করেন মেসি। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় চিলি, আর গভীর হতাশায় ডুবে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য-এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেরই বদলি বেঞ্চে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি, হতাশায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন।
সেই আঘাত এতটাই গভীর ছিল যে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথ এখানেই শেষ। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি,’ তার এই কথাগুলো মুহূর্তেই পুরো আর্জেন্টিনাকে নাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্ব ফুটবলেও সৃষ্টি করে তীব্র আলোড়ন।
পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফুটবল মাঠে ফেরেন মেসি। তারপরই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কেটেছে স্বপ্নময় সময়। জিতেছেন কোপা আমেরিকা, তারপর বিশ্বকাপও।
এবার আশা ছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এসে আরও একবার বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসবেন মেসি। কিন্তু যে স্টেডিয়াম তাকে কাঁদিয়েছিল এক দশক আগে, সেখানে আবারও কাঁদতে হলো মেসিকে।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো আর্জেন্টিনার। ম্যাচ শেষে অনেকক্ষণ মাঠেই বসে ছিলেন। তারপর এক সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের সেই একই মাঠে সেই একই ঘটনার সাক্ষী হতে হবে কে ভেবেছিল!
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















