ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান Logo হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে? Logo ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই’, ব্যালন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে Logo ট্রাম্পের সরাসরি সাহায্য মিলছে না, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোকাবিলায় সংকটে সৌদি যুবরাজ Logo শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার Logo একসময় বল পায়ে লড়াই, এখন তারা সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোচ Logo চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo ফেনীতে নিহত যুবদল নেতা ও অসহায় এক পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার Logo ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৩ জনকে বেছে নিলেন ডেম্বেলে

মাঘ মাসে মাথা এত গরম হলে চৈত্রে কী হবে: জামায়াত আমির

নির্বাচনি প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম। মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয়ে যায়, চৈত্র মাসে কী হবে?

তিনি বলেন, যেদিকে যায় মাথা গরমের লক্ষণ ফুটে ওঠে। মানুষ যখন নিজের ব্যর্থতার গ্লানি নিজের চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন চোখে সর্ষে ফুল ফোটে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, যে যুবকরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশকে হাতে ধরে রাস্তায় তুলে দিয়েছে, ওই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা জেগে আছে।

জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপ্লব সফল করতে আমাদের মা-বোনদের অবদান অপরিসীম। মায়েরা যেদিন রাস্তায় নেমে এসেছিল, সেদিন স্বৈরাচার বুঝেছিল- তাদের আয়ু শেষ। দিশেহারা হয়ে ৩১ জুলাই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা ব্যাংক ডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ চাই।

তিনি বলেন, রাজনীতির নোংরা পথ দিয়ে আর হাঁটা যাবে না, রাজনীতির পরিষ্কার সদর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হবে। জুলাইযোদ্ধা ও শহীদদের কথা দিচ্ছি—আমরা তোমাদের সঙ্গে বেঈমানি করবো না। আমরা আমাদের জীবন দেবো, কিন্তু জুলাই কাউকে দেবো না।

একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন স্ট্যান্ডে, দোকানে, মিল-ফ্যাক্টরি-কারখানায়, ঘরবাড়িতে সব জায়গায় গিলে বললো—‘আমি চাঁদাবাজ, আমার অংশ আমাকে দাও, আমার অংশ না দিয়ে তুমি কিছু করতে পারবা না।’

বিএনপির বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুবকরা বেকার ভাতা নয়, কাজ চায়। চব্বিশের বিপ্লবে যুবকরা বেকার ভাতার কথা বলেনি। তারা মেধার ভিত্তিতে কাজ চেয়েছিল। তারা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করতে চায়।

তিনি বলেন, আমরা অপরাধ-দুর্নীতি বরদাশত করবো না। আমরা অপরাধের কান ধরে টান দেবো। বিগত ৫৪ বছরের নেতৃত্ব আমাদের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারেনি। এজন্য জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে নিজেরা বড়লোক হয়েছে, কিন্তু জনগণের পাওনা জনগণ পায়নি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যারা ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ চায় না, তারা পুরনো বন্দোবস্ত চায়। তারাই যেনতেন একটি বাংলাদেশ চায়। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।

একটি দলের প্রধানের ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর বলেন, তারা গণভোট চায়নি, তাদের দাবি মেনে নিয়েই একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত হলো। তারপরও তাদের নেতাকর্মীরা বলছে, আমরা গণভোট মানি না, গণভোট দরকার নাই। কিন্তু চতুর্দিকে যখন জনগণের ঠেলা শুরু হয়েছে, ঠেলার নাম বাবাজি। এখন আস্তে আস্তে শিশুর মতো মুখে ফুটতে শুরু করেছে—‘গণভোটে হ্যাঁ বলুন’।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস

মাঘ মাসে মাথা এত গরম হলে চৈত্রে কী হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৮:২২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনি প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম। মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয়ে যায়, চৈত্র মাসে কী হবে?

তিনি বলেন, যেদিকে যায় মাথা গরমের লক্ষণ ফুটে ওঠে। মানুষ যখন নিজের ব্যর্থতার গ্লানি নিজের চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন চোখে সর্ষে ফুল ফোটে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, যে যুবকরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশকে হাতে ধরে রাস্তায় তুলে দিয়েছে, ওই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা জেগে আছে।

জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপ্লব সফল করতে আমাদের মা-বোনদের অবদান অপরিসীম। মায়েরা যেদিন রাস্তায় নেমে এসেছিল, সেদিন স্বৈরাচার বুঝেছিল- তাদের আয়ু শেষ। দিশেহারা হয়ে ৩১ জুলাই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা ব্যাংক ডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ চাই।

তিনি বলেন, রাজনীতির নোংরা পথ দিয়ে আর হাঁটা যাবে না, রাজনীতির পরিষ্কার সদর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হবে। জুলাইযোদ্ধা ও শহীদদের কথা দিচ্ছি—আমরা তোমাদের সঙ্গে বেঈমানি করবো না। আমরা আমাদের জীবন দেবো, কিন্তু জুলাই কাউকে দেবো না।

একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন স্ট্যান্ডে, দোকানে, মিল-ফ্যাক্টরি-কারখানায়, ঘরবাড়িতে সব জায়গায় গিলে বললো—‘আমি চাঁদাবাজ, আমার অংশ আমাকে দাও, আমার অংশ না দিয়ে তুমি কিছু করতে পারবা না।’

বিএনপির বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুবকরা বেকার ভাতা নয়, কাজ চায়। চব্বিশের বিপ্লবে যুবকরা বেকার ভাতার কথা বলেনি। তারা মেধার ভিত্তিতে কাজ চেয়েছিল। তারা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করতে চায়।

তিনি বলেন, আমরা অপরাধ-দুর্নীতি বরদাশত করবো না। আমরা অপরাধের কান ধরে টান দেবো। বিগত ৫৪ বছরের নেতৃত্ব আমাদের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারেনি। এজন্য জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে নিজেরা বড়লোক হয়েছে, কিন্তু জনগণের পাওনা জনগণ পায়নি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যারা ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ চায় না, তারা পুরনো বন্দোবস্ত চায়। তারাই যেনতেন একটি বাংলাদেশ চায়। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।

একটি দলের প্রধানের ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর বলেন, তারা গণভোট চায়নি, তাদের দাবি মেনে নিয়েই একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত হলো। তারপরও তাদের নেতাকর্মীরা বলছে, আমরা গণভোট মানি না, গণভোট দরকার নাই। কিন্তু চতুর্দিকে যখন জনগণের ঠেলা শুরু হয়েছে, ঠেলার নাম বাবাজি। এখন আস্তে আস্তে শিশুর মতো মুখে ফুটতে শুরু করেছে—‘গণভোটে হ্যাঁ বলুন’।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ