ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১১ বছর পর সিনেমায় ফিরছেন বিপাশা বসু Logo ভারত-ফ্রান্স সর্ম্পকের নতুন মোড়, মন্দির উদ্বোধনে আবেগে আপ্লুত মোদি Logo নতুন মামলায় গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী দিপু Logo যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর ভরসা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া Logo এবার ঢাকা দক্ষিণ থেকে উত্তরে ভোটার এলাকা বদলালেন আসিফ মাহমুদ Logo শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব Logo ডাবল সেঞ্চুরি করে দুই নজির গড়লেন ভারতীয় ক্রিকেটার Logo সার বিক্রিতে অনিয়ম: সিরাজগঞ্জের ৬ সাব ডিলারের বরাদ্দ বন্ধ Logo নারীদের নিয়ে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য মেনে নেওয়া হবে না: থালাপতি বিজয় Logo এক উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট একসঙ্গে হবে: ইসি সচিব

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ: আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ এখনো রয়ে গেছে। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যেন জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এই জুলাই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন—‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কে? আমি বলি, ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন ও দুঃশাসন চায় না। তারা একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়, নতুন দিন আনতে চায়। সে দিন হবে সাম্য, সমতা ও আনন্দের। যেখানে কোনো অন্তরাত্মা কাঁপানো বাহিনীর হাতে গুম হওয়ার ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক থাকবে না। যে দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, সেই দিন আনতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্র-জনতা অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে রায় দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে—যে পথ আমাদের সংবিধানের কিছু দুর্বলতার কারণে তৈরি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যান্যরা।

বাংলা৭১নিউজ/এসএম

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

১১ বছর পর সিনেমায় ফিরছেন বিপাশা বসু

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় ০২:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ এখনো রয়ে গেছে। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যেন জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এই জুলাই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন—‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কে? আমি বলি, ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন ও দুঃশাসন চায় না। তারা একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়, নতুন দিন আনতে চায়। সে দিন হবে সাম্য, সমতা ও আনন্দের। যেখানে কোনো অন্তরাত্মা কাঁপানো বাহিনীর হাতে গুম হওয়ার ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক থাকবে না। যে দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, সেই দিন আনতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্র-জনতা অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে রায় দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে—যে পথ আমাদের সংবিধানের কিছু দুর্বলতার কারণে তৈরি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যান্যরা।

বাংলা৭১নিউজ/এসএম