ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে, কোনো বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ডাকসুর সাবেক এজিএসসহ দুইজন রিমান্ডে Logo ‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ Logo নিজ দলের নেতাকর্মীরাও এখন বিএনপির হাতে নিরাপদ নয়: সাদিক কায়েম Logo স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে বেড়েই চলছে প্রাণহানি Logo মার্সেলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৫ শুরু, থাকছে বিদেশ ভ্রমণ ও ক্যাশব্যাক Logo রাজস্ব ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি, ৭ কোটি টাকা সংগ্রহে আবেদন লিও আইসিটি ক্যাবলসের Logo কার ক্ষমতা কত বাড়লো বা কমলো, এর চেয়ে বেশি জরুরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী Logo সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo এমপিপুত্রকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক প্রত্যাহার

আদালত চত্বরে আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তেজনা, হামলায় পুলিশ আহত

ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৭ নেতা-কর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পরে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানি শেষে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যের মাথায় আঘাত করা হয়।

আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, আসামিদের নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। এতে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়ে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দের পাশাপাশি দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশটে সুনির্দিষ্ট তারিখ কিংবা নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। এসব ছবি পুরোনো অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১৭ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, জামিনের জন্য তাঁরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে, কোনো বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আদালত চত্বরে আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তেজনা, হামলায় পুলিশ আহত

আপডেট সময় ০৬:১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৭ নেতা-কর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পরে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানি শেষে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যের মাথায় আঘাত করা হয়।

আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, আসামিদের নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। এতে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়ে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দের পাশাপাশি দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশটে সুনির্দিষ্ট তারিখ কিংবা নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। এসব ছবি পুরোনো অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১৭ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, জামিনের জন্য তাঁরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ