ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটকের খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর (ইউএনএইচআরসি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের নির্বিচারে আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে ইউএনএইচআরসির মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভে যেকোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষকে অর্থবহ সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এর আগে গতকাল শনিবার দিল্লিতে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তাদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নেহা বোরাও ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিজেপির কর্মী অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়।

আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কেজরিওয়াল বলেন, দেশের তরুণেরা জেগে উঠেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেন, তাকে ও পাঁচ সংসদ সদস্যকে আটক করে দুই ঘণ্টা ধরে কারাগারে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে ঘোরানো হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ পরে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়। তবে সিজেপির আটক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভের সময় আটক আইনজীবীদের মুক্তির বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তার মৌখিক হস্তক্ষেপের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আটক আইনজীবীদের বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

আপডেট সময় ১০:১১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটকের খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর (ইউএনএইচআরসি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের নির্বিচারে আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে ইউএনএইচআরসির মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভে যেকোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষকে অর্থবহ সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এর আগে গতকাল শনিবার দিল্লিতে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তাদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নেহা বোরাও ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিজেপির কর্মী অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়।

আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কেজরিওয়াল বলেন, দেশের তরুণেরা জেগে উঠেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেন, তাকে ও পাঁচ সংসদ সদস্যকে আটক করে দুই ঘণ্টা ধরে কারাগারে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে ঘোরানো হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ পরে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়। তবে সিজেপির আটক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভের সময় আটক আইনজীবীদের মুক্তির বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তার মৌখিক হস্তক্ষেপের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আটক আইনজীবীদের বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ