ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মহাবিপর্যয়ে ইউরোপ, ৫০ হাজার প্রাণহানি Logo কৃষকের ছেলের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার নয়: পানিসম্পদমন্ত্রী Logo ভারত থেকে আসা ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত উপাদান Logo সোমবার থেকে নতুন রুটে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস Logo থামছেই না হাম উপসর্গে মৃত্যু, একদিনে আরও ৭ প্রাণহানি Logo দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি Logo পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুই মেগা প্রকল্প, ৬৬০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব Logo সৌদির বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের হামলা, তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের Logo ৩০ অক্টোবর শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচি

মহাবিপর্যয়ে ইউরোপ, ৫০ হাজার প্রাণহানি

এল নিনোর প্রভাবে মহাবিপর্যয়ে পড়েছে ইউরোপ। তীব্র গরমে চলতি বছরের গ্রীষ্মে মহাদেশটি জুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের।

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব মৃত্যুর প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুর জন্যই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী।

গবেষকদের মতে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে শহরাঞ্চলগুলোতে অন্তত ৩২ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। দিনের বেলায় তীব্র গরমের পর রাতেও তাপমাত্রা না কমায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সুযোগ পায়নি।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ম্যালকম মিস্ত্রি বলেন, ‘৮৫৪টি শহর এলাকায় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর এই সংখ্যাটি সত্যিই বিস্ময়কর। তবে এর চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টা, ইতালি ও হাঙ্গেরিতে গরমে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে মোট মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এগিয়ে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী কেটি হোয়াইট বলেন, ‘এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, জলবায়ু সংকটের কারণে এই গ্রীষ্মে হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে।’

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালির নেপলস শহর। সেখানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮১৫ জন গরমে মারা গেছেন। মৃতদের প্রায় অর্ধেকই ৮৫ বছরের বেশি বয়সী হলেও কম বয়সীরাও ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এই গরমে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত জটিলতার পাশাপাশি একাকীত্ব ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

নেপলসের চিকিৎসক মারিও গুয়ারিনো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আসল মহামারি হলো একাকীত্ব। গ্রীষ্মের সময় অনেক প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা থাকেন। আয় কম থাকায় তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কিনতে পারেন না, অথবা বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে তা চালানো থেকে বিরত থাকেন।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

মহাবিপর্যয়ে ইউরোপ, ৫০ হাজার প্রাণহানি

মহাবিপর্যয়ে ইউরোপ, ৫০ হাজার প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৮:৩০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

এল নিনোর প্রভাবে মহাবিপর্যয়ে পড়েছে ইউরোপ। তীব্র গরমে চলতি বছরের গ্রীষ্মে মহাদেশটি জুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের।

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব মৃত্যুর প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুর জন্যই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী।

গবেষকদের মতে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে শহরাঞ্চলগুলোতে অন্তত ৩২ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। দিনের বেলায় তীব্র গরমের পর রাতেও তাপমাত্রা না কমায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সুযোগ পায়নি।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ম্যালকম মিস্ত্রি বলেন, ‘৮৫৪টি শহর এলাকায় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর এই সংখ্যাটি সত্যিই বিস্ময়কর। তবে এর চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টা, ইতালি ও হাঙ্গেরিতে গরমে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে মোট মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এগিয়ে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী কেটি হোয়াইট বলেন, ‘এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, জলবায়ু সংকটের কারণে এই গ্রীষ্মে হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে।’

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালির নেপলস শহর। সেখানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮১৫ জন গরমে মারা গেছেন। মৃতদের প্রায় অর্ধেকই ৮৫ বছরের বেশি বয়সী হলেও কম বয়সীরাও ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এই গরমে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত জটিলতার পাশাপাশি একাকীত্ব ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

নেপলসের চিকিৎসক মারিও গুয়ারিনো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আসল মহামারি হলো একাকীত্ব। গ্রীষ্মের সময় অনেক প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা থাকেন। আয় কম থাকায় তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কিনতে পারেন না, অথবা বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে তা চালানো থেকে বিরত থাকেন।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বাংলা৭১নিউজ/জেএস