অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে গভীর রাতে এক মাঝারি ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ৩ অক্টোবর (শনিবার) ভোররাত ২টা ১ মিনিটে হঠাৎ সমগ্র মেলবোর্ন মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকা প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জানালা-কপাট সশব্দে দুলে ওঠায় হাজার হাজার বাসিন্দার মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৮। এর উৎস বা উৎসবিন্দু ছিল মেলবোর্ন শহর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত দক্ষিণ গিপসল্যান্ড অঞ্চলের লিওনগাথা এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়। গভীরতা কম হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা বেশ জোরেশোরেই অনুভূত হয়েছে। মূল ভূকম্পনের ঠিক ৫৫ মিনিট পর, অর্থাৎ ভোররাত ২টা ৫৬ মিনিটে ৩.১ মাত্রার একটি আফটারশক বা অনুকম্পনও রেকর্ড করা হয়।
ভূমিকম্পের ধাক্কা মেলবোর্ন সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) ছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর যেমন—ড্যান্ডেনং, ফ্রাঙ্কস্টন, কফিল্ড, বক্স হিল, ক্লেটন এবং দূরবর্তী জিওলোং ও ফিলিপ আইল্যান্ড পর্যন্ত মারাত্মকভাবে অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পনটি প্রায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। কেবল ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠাই নয়, কম্পনের ঠিক আগে ও চলাকালীন ভূগর্ভস্থ এক বিকট গর্জন শুনতে পান বলে বহু বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ভিক্টোরিয়া স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস (এসইএস) এবং পুলিশ প্রশাসন পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। জরুরি সেবার কন্ট্রোল রুমে ক্ষণিকের মধ্যেই আতঙ্কিত মানুষের শত শত ফোন আসতে শুরু করে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, এই ভূকম্পনে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। শহরের বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস সংযোগের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো স্বাভাবিক রয়েছে। অস্ট্রেলেিয়ার আবহাওয়া দফতর (বিওএম) নিশ্চিত করেছে যে এই কম্পনের ফলে উপকূলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া টেকটোনিক প্লেটের ভেতরের দিকে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ঘনঘন বড় ভূমিকম্প না হলেও ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক চাপের কারণে মাঝে মাঝেই এ ধরনের ‘ইনট্রাপ্লেট’ ভূমিকম্প ঘটে। গিপসল্যান্ড অঞ্চলের সুপ্ত ফল্ট লাইনগুলোর সক্রিয়তার কারণেই এই কম্পন।
প্রশাসন বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ছোট আকারের আরও কিছু অনুকম্পন হতে পারে, তবে তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

























