ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মীমাংসার পরই ইবিতে ফের সংঘর্ষ, প্রক্টর, শিক্ষকসহ আহত ৭ Logo নিজ যোগ্যতায় জাতিসংঘে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান: মাহাদী আমিন Logo ভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সফলতা আড়ালের চেষ্টা হয়েছে : রুমন Logo প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo মেট্রো রেলে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ, মিলবে মাসিক ভাতা ও সনদ Logo জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর Logo ‘ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে যা হচ্ছে, তা প্রিমিয়ার লিগের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ Logo ‘শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করাও বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ’ Logo ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না রাফিনিয়া Logo ৩ সেঞ্চুরিতে রেকর্ড সংগ্রহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ভারতের লক্ষ্য ৪০৬

আইফেল টাওয়ারে নারী কর্মী সরানোর ঘটনায় প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগ

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিইর প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রঁকো রুইভো পদত্যাগ করছেন। নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে চলতি বছরের শেষে তিনি পদ ছাড়বেন।

২০১৮ সাল থেকে মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা রুইভোকে নিয়ে এসইটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বছরের শেষে তিনি সরে দাঁড়াবেন।

ঘটনাটি ঘটেছে চলতি মাসের শুরুতে। বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস)-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসে। ওই সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এসইটিই অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে জানায়, সফর আয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনায় ত্রুটি ও ঘাটতি ছিল। এ কারণেই নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার মতো অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিএপিএস পুরুষ ও নারীদের কঠোরভাবে আলাদা রাখার নীতি মেনে চলে। তাদের মন্দির ও ভবনেও নারী-পুরুষের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, প্রতিনিধিদলের অনুরোধে ‘নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ’ সীমিত রাখার শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি। এক ইউনিয়ন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নারী কর্মীদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল। এতে তারা অপমানিত বোধ করেছেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদল অবস্থানকালে নারীদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেতে বা চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কর্মীরা ধর্মঘট করে আইফেল টাওয়ার বন্ধ করে দেন। ফ্রান্সের রাজনীতিকরাও সমালোচনা করেন।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে বলেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবিতে নারীদের একপাশে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হবে, আমি তা মেনে নিতে পারি না।

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার একে ‘অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন।

এসইটিইর চেয়ারম্যান অ্যারিয়েল ওয়েইল গতকাল মঙ্গলবার জানান, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন সবচেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য আগামী কয়েক মাসে প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মীমাংসার পরই ইবিতে ফের সংঘর্ষ, প্রক্টর, শিক্ষকসহ আহত ৭

আইফেল টাওয়ারে নারী কর্মী সরানোর ঘটনায় প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগ

আপডেট সময় ০৬:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিইর প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রঁকো রুইভো পদত্যাগ করছেন। নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে চলতি বছরের শেষে তিনি পদ ছাড়বেন।

২০১৮ সাল থেকে মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা রুইভোকে নিয়ে এসইটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বছরের শেষে তিনি সরে দাঁড়াবেন।

ঘটনাটি ঘটেছে চলতি মাসের শুরুতে। বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস)-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসে। ওই সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এসইটিই অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে জানায়, সফর আয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনায় ত্রুটি ও ঘাটতি ছিল। এ কারণেই নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার মতো অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিএপিএস পুরুষ ও নারীদের কঠোরভাবে আলাদা রাখার নীতি মেনে চলে। তাদের মন্দির ও ভবনেও নারী-পুরুষের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, প্রতিনিধিদলের অনুরোধে ‘নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ’ সীমিত রাখার শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি। এক ইউনিয়ন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নারী কর্মীদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল। এতে তারা অপমানিত বোধ করেছেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদল অবস্থানকালে নারীদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেতে বা চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কর্মীরা ধর্মঘট করে আইফেল টাওয়ার বন্ধ করে দেন। ফ্রান্সের রাজনীতিকরাও সমালোচনা করেন।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে বলেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবিতে নারীদের একপাশে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হবে, আমি তা মেনে নিতে পারি না।

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার একে ‘অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন।

এসইটিইর চেয়ারম্যান অ্যারিয়েল ওয়েইল গতকাল মঙ্গলবার জানান, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন সবচেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য আগামী কয়েক মাসে প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ