ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে টানাটানি চলছিল, তার ওপর এই হামলায় পরিস্থিতি আরও থমথমে হয়ে উঠেছে।
হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু শহরের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে এই সফল হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা মাঝপথেই হুথিদের ছোঁড়া ছয়টি ব্যালিশটিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে সৌদি সরকার বা তেল কোম্পানি আরামকো এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে তেলের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ একা আরামকোই জোগান দিয়ে থাকে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় তিন শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৮ ডলারে উঠে গেলেও পরে তা সামান্য কমে ১০৫ থেকে ১০৬ ডলারের ঘরে এসে স্থির হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত না থামলে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, যুদ্ধের কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে তেলের ঘাটতি দিন দিন কেবল বাড়ছেই। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কিছু চেষ্টা চললেও তেলের বাজার নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ এখনই কাটছে না।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























