পানমশলার বিজ্ঞাপন নিয়ে আইনি জটিলতার পর এবার নতুন করে আলোচনায় বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন। এবার তার জুহুর বাংলো ঘিরে আপত্তি তুলেছে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)।
বাংলোটির একটি অংশে স্যালোঁ ও স্পা পার্লার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির অভিযোগের পর সেই কাজ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাউজিং সোসাইটির অভিযোগের ভিত্তিতে বিএমসির কে-ওয়েস্ট ওয়ার্ড থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগ, সম্পত্তিটির যে অংশে স্যালোঁ ও স্পা তৈরির কাজ চলছে, সেটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিএমসি কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনপত্র চেয়েছিল। তবে নির্ধারিত নথি দেখাতে না পারায় কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য দেবগন পরিবারকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলোটিতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা ধরনের সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।
হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্যালোঁ ও স্পা চালু হলে এলাকায় মানুষের আনাগোনা বাড়বে। এর সঙ্গে পার্কিং, নিরাপত্তা ও শব্দদূষণের সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ওই এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের।
স্থানীয় করপোরেটর সুধা সিং জানিয়েছেন, বিষয়টি কে-ওয়েস্ট ওয়ার্ডের বিল্ডিং অ্যান্ড ফ্যাক্টরিজ বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
তার কথায়, ‘বিষয়টি কে-ওয়েস্ট ওয়ার্ডের বিল্ডিং অ্যান্ড ফ্যাক্টরিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে।
প্রাথমিকভাবে, এই নির্দিষ্ট সম্পত্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য কোনও অনুমতিপত্র মালিকপক্ষের কাছে নেই। কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিএমসি সম্পত্তির মালিকের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছিল এবং তাঁরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে অবিলম্বে কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে।’
তবে দেবগন পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, স্যালোঁ ও স্পা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ও অনুমোদন যথাযথভাবেই নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির জন্য পাঁচ বছরের চুক্তিও করা হয়েছিল। চুক্তির প্রথম বছরে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ লাখ রুপি। পরবর্তী বছরগুলোতে ভাড়ার অঙ্ক বাড়ার কথা ছিল।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি এবং বিএমসির নোটিশের পর এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে সম্পত্তির মালিকপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও অনুমোদনের বৈধতার ওপর। ফলে অজয় দেবগনের জুহুর বাংলোয় স্যালোঁ ও স্পা তৈরির কাজ শেষ পর্যন্ত চালু হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























