ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪৪

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকসহ এখন পযন্ত নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

২৬ আগস্টের ভয়াবহ এই বন্যায় ভোতে কোশি নদীর স্রোতে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, এ বন্যায় চীনের অংশেও অন্তত ২১ জন নিহত এবং তিব্বতে ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ৩৬০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। এরপর নাওয়ালপরাসি পশ্চিমে ২৩০ এবং নাওয়ালপরাসি পূর্বে ২২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো নুয়াকোট, রাসুওয়া, গোরখা, ধাদিং ও তানাহুন জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে ১ হাজার ৩০টি মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত মাত্র ৯৬টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শনিবার নুয়াকোট জেলার বিদুর শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চারতলা একটি ভবনের ওপরের তলা থেকে ৬০ বছর বয়সী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ১০ দিন ধরে আটকা ছিলেন। অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসার জন্য ত্রিশূলীতে নেপাল সেনাবাহিনীর মৈথিলী ব্যারাকে নেওয়া হয়।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ৩৪৪টি মরদেহের মধ্যে ৭৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ৮৫ জন শিশু এবং ৫০১টি মরদেহের কিছু অংশ অনুপস্থিত।

দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা ও ধ্বংসস্তূপের চাপে মরদেহগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪৪

আপডেট সময় ০৬:১৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকসহ এখন পযন্ত নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

২৬ আগস্টের ভয়াবহ এই বন্যায় ভোতে কোশি নদীর স্রোতে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, এ বন্যায় চীনের অংশেও অন্তত ২১ জন নিহত এবং তিব্বতে ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ৩৬০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। এরপর নাওয়ালপরাসি পশ্চিমে ২৩০ এবং নাওয়ালপরাসি পূর্বে ২২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো নুয়াকোট, রাসুওয়া, গোরখা, ধাদিং ও তানাহুন জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে ১ হাজার ৩০টি মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত মাত্র ৯৬টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শনিবার নুয়াকোট জেলার বিদুর শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চারতলা একটি ভবনের ওপরের তলা থেকে ৬০ বছর বয়সী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ১০ দিন ধরে আটকা ছিলেন। অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসার জন্য ত্রিশূলীতে নেপাল সেনাবাহিনীর মৈথিলী ব্যারাকে নেওয়া হয়।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ৩৪৪টি মরদেহের মধ্যে ৭৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ৮৫ জন শিশু এবং ৫০১টি মরদেহের কিছু অংশ অনুপস্থিত।

দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা ও ধ্বংসস্তূপের চাপে মরদেহগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ