ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাড়িতে উঠলেই বমি আসে? গুগলের এই ফিচার দেবে সমাধান

চলন্ত গাড়ি বা বাসে যাতায়াতের সময় ফোন ব্যবহার করা অনেকের কাছেই কঠিন, কারণ কিছুক্ষণ স্ক্রিন দেখার পর মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে গুগল তাদের অ্যানড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ নামের একটি নতুন ফিচার ধীরে ধীরে চালু করছে।

এই ফিচারটি ফোনের পর্দার প্রান্তে কিছু চলমান বিন্দু বা ডট দেখায়, যা গাড়ির গতির সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শরীর যে ধরনের নড়াচড়া অনুভব করছে, চোখকেও ঠিক সেই একই ধরনের মুভমেন্ট বা গতি দেখানো।

মোশন অ্যাসিস্ট ফিচারটি বিশেষভাবে যাত্রাপথে ফোন ব্যবহারের কারণে তৈরি হওয়া মোশন সিকনেস কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। গুগলের এই ফিচারটি আপাতত পিক্সেল ফোন দিয়ে শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা অন্যান্য ডিভাইসে পৌঁছাচ্ছে। অ্যাপল এর আগে ২০২৪ সাল থেকে ‘মোশন কিউজ’ নামে একই ধরনের একটি ফিচার দিয়ে আসছে, যা চলন্ত অবস্থায় স্ক্রিন দেখার সময় বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

এই ফিচারটি ফোনের অ্যাক্সিলেরোমিটার এবং জাইরোস্কোপ সেন্সর ব্যবহার করে ফোনের নড়াচড়া এবং তার দিকের পরিবর্তন শনাক্ত করে। এরপর পর্দার প্রান্তে থাকা ডটগুলো সেই অনুযায়ী নড়ে। যেমন, গাড়ি ডানদিকে বাঁক নিলে ডটগুলোকে বামদিকে যেতে দেখা যায় এবং ব্রেক করলে ডটগুলো সামনের দিকে সরে যায়। এর ফলে চোখ এমন একটি দৃশ্যগত গতি দেখতে পায় যা কানের ভেতরের অংশের পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মিলে যায় এবং যাত্রাপথের অস্বস্তি কমে।

মোশন অ্যাসিস্ট ব্যবহার করতে প্রথমে ফোনের গুগল প্লে সেটিংস-এ যেতে হবে। এরপর প্রোফাইল বিভাগে ট্যাপ করে সিকিউরিটি এবং ডিভাইস সংক্রান্ত ফিচার থেকে মোশন অ্যাসিস্ট অপশনটি খুঁজে পাওয়া যাবে। এতে এমন একটি বিকল্পও রয়েছে যার মাধ্যমে ফোনটি চলন্ত গাড়িতে আছে বুঝতে পারলে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। এ ছাড়া দ্রুত সেটিংস বা কুইক সেটিংসে এর শর্টকাট যোগ করে ম্যানুয়ালিও এটি চালু বা বন্ধ করা যায়। ব্যবহারকারীরা চাইলে পর্দার ডটগুলোর রং, আকৃতি এবং স্বচ্ছতাও নিজেদের পছন্দমতো পরিবর্তন করতে পারেন।

বর্তমানে এই ফিচারের রোলআউট বেশ সীমিত এবং কিছু পিক্সেল ডিভাইসেই এটি দেখা যাচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড ১৭ থাকা সত্ত্বেও সব ফোনে এটি এখনও এসে পৌঁছায়নি। কোম্পানি এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

গাড়িতে উঠলেই বমি আসে? গুগলের এই ফিচার দেবে সমাধান

আপডেট সময় ০৩:২৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলন্ত গাড়ি বা বাসে যাতায়াতের সময় ফোন ব্যবহার করা অনেকের কাছেই কঠিন, কারণ কিছুক্ষণ স্ক্রিন দেখার পর মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে গুগল তাদের অ্যানড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ নামের একটি নতুন ফিচার ধীরে ধীরে চালু করছে।

এই ফিচারটি ফোনের পর্দার প্রান্তে কিছু চলমান বিন্দু বা ডট দেখায়, যা গাড়ির গতির সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শরীর যে ধরনের নড়াচড়া অনুভব করছে, চোখকেও ঠিক সেই একই ধরনের মুভমেন্ট বা গতি দেখানো।

মোশন অ্যাসিস্ট ফিচারটি বিশেষভাবে যাত্রাপথে ফোন ব্যবহারের কারণে তৈরি হওয়া মোশন সিকনেস কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। গুগলের এই ফিচারটি আপাতত পিক্সেল ফোন দিয়ে শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা অন্যান্য ডিভাইসে পৌঁছাচ্ছে। অ্যাপল এর আগে ২০২৪ সাল থেকে ‘মোশন কিউজ’ নামে একই ধরনের একটি ফিচার দিয়ে আসছে, যা চলন্ত অবস্থায় স্ক্রিন দেখার সময় বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

এই ফিচারটি ফোনের অ্যাক্সিলেরোমিটার এবং জাইরোস্কোপ সেন্সর ব্যবহার করে ফোনের নড়াচড়া এবং তার দিকের পরিবর্তন শনাক্ত করে। এরপর পর্দার প্রান্তে থাকা ডটগুলো সেই অনুযায়ী নড়ে। যেমন, গাড়ি ডানদিকে বাঁক নিলে ডটগুলোকে বামদিকে যেতে দেখা যায় এবং ব্রেক করলে ডটগুলো সামনের দিকে সরে যায়। এর ফলে চোখ এমন একটি দৃশ্যগত গতি দেখতে পায় যা কানের ভেতরের অংশের পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মিলে যায় এবং যাত্রাপথের অস্বস্তি কমে।

মোশন অ্যাসিস্ট ব্যবহার করতে প্রথমে ফোনের গুগল প্লে সেটিংস-এ যেতে হবে। এরপর প্রোফাইল বিভাগে ট্যাপ করে সিকিউরিটি এবং ডিভাইস সংক্রান্ত ফিচার থেকে মোশন অ্যাসিস্ট অপশনটি খুঁজে পাওয়া যাবে। এতে এমন একটি বিকল্পও রয়েছে যার মাধ্যমে ফোনটি চলন্ত গাড়িতে আছে বুঝতে পারলে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। এ ছাড়া দ্রুত সেটিংস বা কুইক সেটিংসে এর শর্টকাট যোগ করে ম্যানুয়ালিও এটি চালু বা বন্ধ করা যায়। ব্যবহারকারীরা চাইলে পর্দার ডটগুলোর রং, আকৃতি এবং স্বচ্ছতাও নিজেদের পছন্দমতো পরিবর্তন করতে পারেন।

বর্তমানে এই ফিচারের রোলআউট বেশ সীমিত এবং কিছু পিক্সেল ডিভাইসেই এটি দেখা যাচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড ১৭ থাকা সত্ত্বেও সব ফোনে এটি এখনও এসে পৌঁছায়নি। কোম্পানি এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস