ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ব্যর্থ হলে দুনিয়া আরো বেশি আঘাত করবে’ প্রিয়াঙ্কার জীবন থেকে শিক্ষা

২০২৬ সালেও কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক কাজের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়েও বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি তার পুরনো একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যেখানে ব্যর্থতার সময় কিভাবে নিজেকে সামলে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন এই অভিনেত্রী।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

প্রিয়াঙ্কার সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কাজ।

এর মধ্যে অন্যতম ‘বারাণসী’। সিনেমাটি নিয়ে ২০২৬ সালেও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও আলোচনায় রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি স্বামী নিক জোনাসের সঙ্গে লাস ভেগাসে একটি কনসার্টে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কাকে।

সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।এর মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে ব্যর্থতা নিয়ে প্রিয়াঙ্কার পুরনো বক্তব্য।

২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল পিংকভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবনের কঠিন সময় ও ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কার মতে, ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তখন চারপাশের মানুষের সমর্থন কমে যেতে পারে।

কেউ সমালোচনা করতে পারে, কেউ আবার আঘাতও করতে পারে। কিন্তু এমন সময়েই নিজের মূল্য বুঝে সামনে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে জরুরি।

তিনি বলেছিলেন, ব্যর্থ হলে দুনিয়া আরো বেশি আঘাত করবে।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের মূল কথা ছিল, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও নিজের ওপর বিশ্বাস হারানো যাবে না। পরিস্থিতি যত খারাপই হোক, সেখান থেকে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

প্রিয়াঙ্কার মতে, ব্যর্থতা কোনো মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে না। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরো ভালোভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সাফল্যের সময় প্রশংসা পাওয়া সহজ। চারপাশের মানুষও তখন পাশে থাকে। কিন্তু কঠিন সময়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করে নিজের সক্ষমতা ও মূল্য বুঝতে হবে।

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছ থেকেই এমন মানসিকতা শেখার কথা জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানান, জীবনে মানুষ যত কঠিন সময়ের মধ্যেই পড়ুক, হতাশায় ডুবে না থেকে নিজেকে আবার তুলে ধরতে হবে।

তার মতে, জীবনকে হতাশা ও আত্মদুঃখের মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেও জীবনের মূল্য বোঝা এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিজের ক্যারিয়ারও সবসময় মসৃণ ছিল না। বলিউডে কাজের শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বলিউডে বাইরে থেকে আসা মানুষের জন্য জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

ক্যারিয়ারে প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে প্রিয়াঙ্কার। ২০২৬ সালে নিজের কাজ ও সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কোনো কাজের জন্য ‘না’ শুনলে সেটি করার আগ্রহ বরং আরো বেড়ে যায়। নিজের ভুল স্বীকার করে সেখান থেকে শেখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কার এই বক্তব্য মূলত ব্যর্থতার পর মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তা দেয়। জীবনে সাফল্য যেমন থাকবে, তেমনই ব্যর্থতাও আসতে পারে। একটি ব্যর্থতা দিয়ে পুরো জীবনকে বিচার করা যায় না।

কঠিন সময় মানুষের সামনে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বোঝার সুযোগ তৈরি করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে শুরু করাই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।

প্রিয়াঙ্কার নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারেও এমন অনেক পরিবর্তন এসেছে। বলিউড থেকে হলিউডে কাজের বিস্তার ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।

তাই কয়েক বছর আগে দেওয়া প্রিয়াঙ্কার কথাগুলো নতুন করে সামনে এলেও এর বার্তা এখনও প্রাসঙ্গিক—ব্যর্থতা শেষ নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি সুযোগ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

‘ব্যর্থ হলে দুনিয়া আরো বেশি আঘাত করবে’ প্রিয়াঙ্কার জীবন থেকে শিক্ষা

আপডেট সময় ০৬:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৬ সালেও কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক কাজের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়েও বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি তার পুরনো একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যেখানে ব্যর্থতার সময় কিভাবে নিজেকে সামলে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন এই অভিনেত্রী।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

প্রিয়াঙ্কার সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কাজ।

এর মধ্যে অন্যতম ‘বারাণসী’। সিনেমাটি নিয়ে ২০২৬ সালেও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও আলোচনায় রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি স্বামী নিক জোনাসের সঙ্গে লাস ভেগাসে একটি কনসার্টে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কাকে।

সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।এর মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে ব্যর্থতা নিয়ে প্রিয়াঙ্কার পুরনো বক্তব্য।

২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল পিংকভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবনের কঠিন সময় ও ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কার মতে, ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তখন চারপাশের মানুষের সমর্থন কমে যেতে পারে।

কেউ সমালোচনা করতে পারে, কেউ আবার আঘাতও করতে পারে। কিন্তু এমন সময়েই নিজের মূল্য বুঝে সামনে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে জরুরি।

তিনি বলেছিলেন, ব্যর্থ হলে দুনিয়া আরো বেশি আঘাত করবে।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের মূল কথা ছিল, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও নিজের ওপর বিশ্বাস হারানো যাবে না। পরিস্থিতি যত খারাপই হোক, সেখান থেকে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

প্রিয়াঙ্কার মতে, ব্যর্থতা কোনো মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে না। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরো ভালোভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সাফল্যের সময় প্রশংসা পাওয়া সহজ। চারপাশের মানুষও তখন পাশে থাকে। কিন্তু কঠিন সময়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করে নিজের সক্ষমতা ও মূল্য বুঝতে হবে।

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছ থেকেই এমন মানসিকতা শেখার কথা জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানান, জীবনে মানুষ যত কঠিন সময়ের মধ্যেই পড়ুক, হতাশায় ডুবে না থেকে নিজেকে আবার তুলে ধরতে হবে।

তার মতে, জীবনকে হতাশা ও আত্মদুঃখের মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেও জীবনের মূল্য বোঝা এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিজের ক্যারিয়ারও সবসময় মসৃণ ছিল না। বলিউডে কাজের শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বলিউডে বাইরে থেকে আসা মানুষের জন্য জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

ক্যারিয়ারে প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে প্রিয়াঙ্কার। ২০২৬ সালে নিজের কাজ ও সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কোনো কাজের জন্য ‘না’ শুনলে সেটি করার আগ্রহ বরং আরো বেড়ে যায়। নিজের ভুল স্বীকার করে সেখান থেকে শেখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কার এই বক্তব্য মূলত ব্যর্থতার পর মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তা দেয়। জীবনে সাফল্য যেমন থাকবে, তেমনই ব্যর্থতাও আসতে পারে। একটি ব্যর্থতা দিয়ে পুরো জীবনকে বিচার করা যায় না।

কঠিন সময় মানুষের সামনে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বোঝার সুযোগ তৈরি করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে শুরু করাই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।

প্রিয়াঙ্কার নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারেও এমন অনেক পরিবর্তন এসেছে। বলিউড থেকে হলিউডে কাজের বিস্তার ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।

তাই কয়েক বছর আগে দেওয়া প্রিয়াঙ্কার কথাগুলো নতুন করে সামনে এলেও এর বার্তা এখনও প্রাসঙ্গিক—ব্যর্থতা শেষ নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি সুযোগ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ