ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ: জাতিসংঘ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্বের প্রায় নয় কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এসব মানুষের জন্য আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুরবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বসবাস করছেন। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে এসব মানুষের সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (কার্যক্রম) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পথও কঠিন হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে ফেরা শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন এলাকায় ফিরেছেন, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে তাদের পুনরায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। সম্প্রতি দেশটিতে ফিরে যাওয়া প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের সমস্যায় পড়েছেন। এর মধ্যে গত মে মাসে ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদীর বন্যায় দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অনেকে আবারও বাস্তুচ্যুত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের একটিতে বছরে অন্তত ১০০ দিন প্রাণঘাতী তাপদাহ দেখা দিতে পারে। ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনের মতো কিছু শিবিরে বছরে ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তীব্র তাপদাহ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় শরণার্থীদের জন্য তীব্র গরম থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি শরণার্থী আশ্রয় দেওয়া বিভিন্ন দেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ভয়াবহ বন্যার কারণে ৩০ লাখ পর্যন্ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এশিয়ার বিভিন্ন অংশেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তুরস্কের কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর প্রতি অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০ শতাংশের মতো অর্থ ভঙ্গুর ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে পৌঁছায়। বাস্তুচ্যুত মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত অপ্রতুল।

এর আগে গত বুধবার জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ধনী দেশগুলো সেই অর্থ জোগানের প্রতিশ্রুতি পূরণে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ০৭:৪২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্বের প্রায় নয় কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এসব মানুষের জন্য আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুরবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বসবাস করছেন। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে এসব মানুষের সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (কার্যক্রম) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পথও কঠিন হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে ফেরা শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন এলাকায় ফিরেছেন, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে তাদের পুনরায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। সম্প্রতি দেশটিতে ফিরে যাওয়া প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের সমস্যায় পড়েছেন। এর মধ্যে গত মে মাসে ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদীর বন্যায় দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অনেকে আবারও বাস্তুচ্যুত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের একটিতে বছরে অন্তত ১০০ দিন প্রাণঘাতী তাপদাহ দেখা দিতে পারে। ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনের মতো কিছু শিবিরে বছরে ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তীব্র তাপদাহ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় শরণার্থীদের জন্য তীব্র গরম থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি শরণার্থী আশ্রয় দেওয়া বিভিন্ন দেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ভয়াবহ বন্যার কারণে ৩০ লাখ পর্যন্ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এশিয়ার বিভিন্ন অংশেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তুরস্কের কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর প্রতি অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০ শতাংশের মতো অর্থ ভঙ্গুর ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে পৌঁছায়। বাস্তুচ্যুত মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত অপ্রতুল।

এর আগে গত বুধবার জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ধনী দেশগুলো সেই অর্থ জোগানের প্রতিশ্রুতি পূরণে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ