দীর্ঘ ৭০ বছরের ইতিহাসে ফ্রান্সের বাইরে প্রথমবার ব্যালন ডি’অরের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন হয় লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। ইংলিশ কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি সম্মান জানাতেই লন্ডনে এই আয়োজন হয়।
১৯৫৬ সালে চালু হওয়া পুরস্কারটির প্রথম বিজয়ী তিনি।
গেল ২৬ অক্টোবর সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ম্যাথিউসেরই স্বদেশি হ্যারি কেইন। তাতে ২৫ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে ইংল্যান্ডের। ২০০১ সালে সর্বশেষ জিতেছিলেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মাইকেল ওয়েন।
ইংল্যান্ডের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতাটা সহজ ছিল না কেইনের। ভোটিংয়ে দুর্দান্ত এক লড়াই যে হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকারের সোনালি ট্রফি জয়ের ব্যবধান যে মাত্র ২৮ পয়েন্টের। পুরস্কারের ইতিহাসে এটি চতুর্থ নিকটতম ভোটের লড়াই।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে কেইন পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় হওয়া এমবাপ্পের সংগ্রহ ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। প্রথম স্থানের ভোটেও এগিয়ে ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের ভোটে কেইন প্রথম স্থান পেয়েছেন ৪০টি। এমবাপ্পের ঝুলিতে ছিল ২৩টি প্রথম স্থানের ভোট।
ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে গত মৌসুম শেষ করেছিলেন কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করেছিলেন ৭৩ গোল। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করেন তিনি। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪২ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে ২২ গোল করে আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন তিনি।
দুজনের লড়াই থেকে বেশ পিছিয়ে ছিলেন তৃতীয় হওয়া লামিনে ইয়ামাল। তার পয়েন্ট ৮৮১। ১৩টি প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের ফরোয়ার্ড। চতুর্থ হয়েছেন লামিনের সতীর্থ রদ্রি। তার পয়েন্ট ৭২৬। প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন ১০টি।
নারী বিভাগে লড়াইকে অবশ্য একপেশেই বলা যায়। ৬১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। দ্বিতীয় হওয়া এওয়া পায়োরের পয়েন্ট ৫৩২। ব্যবধান ৮৬। ম্যানচেস্টার সিটির খাদিজা শ ৩৪৪ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছেন তৃতীয়।
ছেলের শীর্ষ ১০ :
১. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ) – ১০৫৫ পয়েন্ট
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ) – ১০২৭ পয়েন্ট
৩. লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা) – ৮৮১ পয়েন্ট
৪. রদ্রি (স্পেন ও বার্সেলোনা) – ৭২৬ পয়েন্ট
৫. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামি) – ৬১২ পয়েন্ট
৬. খিচা কাভেরেইস্কা (জর্জিয়া ও পিএসজি) – ৫৪১ পয়েন্ট
৭. উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স ও পিএসজি) – ৪১৮ পয়েন্ট
৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটি) – ৩৭৮ পয়েন্ট
৯. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখ) – ২৯৬ পয়েন্ট
১০. ফ্যাবিয়ান রুইজ (স্পেন ও পিএসজি) – ২০১ পয়েন্ট
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























