কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৫০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের বিস্তার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন।
আগুনের প্রকৃতি ও গ্যাসের উপাদান নির্ণয়ে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। কিন্তু এখনো রেজাল্ট আসেনি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোটখাল-সংলগ্ন আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে এই নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তায় প্রশাসন সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এদিকে, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বন্ধ রাখা বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩৬ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টা থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে ওই এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবার, যা বুধবার রাতে সচল হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইনানী ছোটখাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করলেও ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বুধবার বিকেলে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের ফাটলের মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ ছাড়া গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বাংলা৭১নিউজ/সারোয়ার





















