ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিত্র থাকা মানুষের জন্য আল্লাহর ৬ উপহার

চারপাশে নানা ধরনের গুনাহের সুযোগ ও প্রলোভন রয়েছে। এসব থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা সহজ নয়। তবু যারা আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে দূরে থাকেন, নিজের দৃষ্টি ও চরিত্রের হেফাজত করেন, কোরআন-হাদিসে তাদের জন্য সুসংবাদ এসেছে। পবিত্র জীবন যাপনকারীদের জন্য রয়েছে আল্লাহর ভালোবাসা ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি।

১. আল্লাহর ভালোবাসা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২)

গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখা দুটিই পবিত্র জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত।

২. আত্মশুদ্ধিতেই সফলতা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস: ৯-১০)

হিংসা, অহংকার ও অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা শুধরে নেওয়া এসবের মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে শুদ্ধ করতে পারে।

৩. হাশরের দিনে আল্লাহর ছায়া
রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেই ব্যক্তি, যাকে উচ্চ বংশমর্যাদার ও সুন্দরী এক নারী গুনাহের দিকে আহ্বান জানায়, কিন্তু সে বলে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন সেই যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। (সহিহ বুখারি: ৬৬০; সহিহ মুসলিম: ১০৩১)

সুযোগ পেয়েও আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা মুমিনের চরিত্রের বড় পরিচয়।

৪. জান্নাতের সুসংবাদ
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মাঝখানের বস্তু এবং দুই পায়ের মাঝখানের বস্তুর হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৭৪)

দুই চোয়ালের মাঝখানের বস্তু হলো জিহ্বা, আর দুই পায়ের মাঝখানের বস্তু হলো লজ্জাস্থান। জিহ্বাকে মিথ্যা, পরনিন্দা ও অশালীন কথা থেকে এবং নিজেকে যৌন অনাচার থেকে বাঁচিয়ে রাখা পবিত্র চরিত্রের পরিচয়। যারা নিজেদের কথা ও আচরণ সংযত রাখেন এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন, এই হাদিস তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ তুলে ধরে।

৫. মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকার দৃষ্টান্ত
কোরআনে ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা পাপ থেকে বেঁচে থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এক নারী তাঁকে পাপের দিকে আহ্বান জানালে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই।’ (সুরা ইউসুফ: ২৩) পরের আয়াতে আল্লাহ জানান, তিনি ইউসুফ (আ.)-এর কাছ থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা দূরে রেখেছিলেন। কারণ, তিনি ছিলেন আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দাদের একজন। (সুরা ইউসুফ: ২৪)

দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নির্দেশও কোরআনে রয়েছে। আল্লাহ মুমিন পুরুষদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্র।’ মুমিন নারীদেরও একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখতে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করতে বলা হয়েছে। (সুরা নুর: ৩০-৩১)

৬. সুস্থ অন্তরের মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে। সেটি সুস্থ থাকলে পুরো শরীর সুস্থ থাকে, আর সেটি নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়। জেনে রেখো, সেটি হলো অন্তর।’ (সহিহ বুখারি: ৫২; সহিহ মুসলিম: ১৫৯৯)

অন্তরে হিংসা, অহংকার ও বিদ্বেষ পুষে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন সম্পদ ও সন্তান উপকারে আসবে না। উপকারে আসবে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। (সুরা শুআরা: ৮৮-৮৯)

ভুল হলে তাওবার পথে ফিরুন
পবিত্র জীবন যাপন করলেও মানুষের ভুল হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আদমসন্তান প্রত্যেকেই গুনাহ করে, আর গুনাহকারীদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তাওবা করে।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৪৯৯)

গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তাওবা করতে হবে। কারও অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে বা ক্ষমা নিতে হবে। একই ভুল যেন আবার না হয়, সে চেষ্টাও জরুরি।

আল্লাহ আমাদের বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতা রক্ষা এবং সৎকাজে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র থাকা মানুষের জন্য আল্লাহর ৬ উপহার

আপডেট সময় ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চারপাশে নানা ধরনের গুনাহের সুযোগ ও প্রলোভন রয়েছে। এসব থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা সহজ নয়। তবু যারা আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে দূরে থাকেন, নিজের দৃষ্টি ও চরিত্রের হেফাজত করেন, কোরআন-হাদিসে তাদের জন্য সুসংবাদ এসেছে। পবিত্র জীবন যাপনকারীদের জন্য রয়েছে আল্লাহর ভালোবাসা ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি।

১. আল্লাহর ভালোবাসা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২)

গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখা দুটিই পবিত্র জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত।

২. আত্মশুদ্ধিতেই সফলতা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস: ৯-১০)

হিংসা, অহংকার ও অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা শুধরে নেওয়া এসবের মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে শুদ্ধ করতে পারে।

৩. হাশরের দিনে আল্লাহর ছায়া
রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেই ব্যক্তি, যাকে উচ্চ বংশমর্যাদার ও সুন্দরী এক নারী গুনাহের দিকে আহ্বান জানায়, কিন্তু সে বলে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন সেই যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। (সহিহ বুখারি: ৬৬০; সহিহ মুসলিম: ১০৩১)

সুযোগ পেয়েও আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা মুমিনের চরিত্রের বড় পরিচয়।

৪. জান্নাতের সুসংবাদ
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মাঝখানের বস্তু এবং দুই পায়ের মাঝখানের বস্তুর হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৭৪)

দুই চোয়ালের মাঝখানের বস্তু হলো জিহ্বা, আর দুই পায়ের মাঝখানের বস্তু হলো লজ্জাস্থান। জিহ্বাকে মিথ্যা, পরনিন্দা ও অশালীন কথা থেকে এবং নিজেকে যৌন অনাচার থেকে বাঁচিয়ে রাখা পবিত্র চরিত্রের পরিচয়। যারা নিজেদের কথা ও আচরণ সংযত রাখেন এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন, এই হাদিস তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ তুলে ধরে।

৫. মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকার দৃষ্টান্ত
কোরআনে ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা পাপ থেকে বেঁচে থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এক নারী তাঁকে পাপের দিকে আহ্বান জানালে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই।’ (সুরা ইউসুফ: ২৩) পরের আয়াতে আল্লাহ জানান, তিনি ইউসুফ (আ.)-এর কাছ থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা দূরে রেখেছিলেন। কারণ, তিনি ছিলেন আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দাদের একজন। (সুরা ইউসুফ: ২৪)

দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নির্দেশও কোরআনে রয়েছে। আল্লাহ মুমিন পুরুষদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্র।’ মুমিন নারীদেরও একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখতে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করতে বলা হয়েছে। (সুরা নুর: ৩০-৩১)

৬. সুস্থ অন্তরের মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে। সেটি সুস্থ থাকলে পুরো শরীর সুস্থ থাকে, আর সেটি নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়। জেনে রেখো, সেটি হলো অন্তর।’ (সহিহ বুখারি: ৫২; সহিহ মুসলিম: ১৫৯৯)

অন্তরে হিংসা, অহংকার ও বিদ্বেষ পুষে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন সম্পদ ও সন্তান উপকারে আসবে না। উপকারে আসবে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। (সুরা শুআরা: ৮৮-৮৯)

ভুল হলে তাওবার পথে ফিরুন
পবিত্র জীবন যাপন করলেও মানুষের ভুল হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আদমসন্তান প্রত্যেকেই গুনাহ করে, আর গুনাহকারীদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তাওবা করে।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৪৯৯)

গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তাওবা করতে হবে। কারও অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে বা ক্ষমা নিতে হবে। একই ভুল যেন আবার না হয়, সে চেষ্টাও জরুরি।

আল্লাহ আমাদের বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতা রক্ষা এবং সৎকাজে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস