ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমাবারে ফজরের নামাজে নবীজি (সা.) যে ২ সুরা তিলাওয়াত করতেন

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। পবিত্র কুরআনে জুমা নামে একটি সুরাও রয়েছে। যেখানে মহান এই দিনের তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)।

এই দিনটিকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- সূর্য উদয়ের দিবসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। সে দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়। তাকে ওইদিন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। তাকে তা থেকে ওইদিন বের করা হয়। আর কেয়ামতও হবে জুমার দিবসেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫০)

এজন্য জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করে মিসওয়াক, সুগন্ধি ব্যবহারসহ উত্তম কাপড় পরিধান করে মসজিদে যাওয়ার কথাও অনেক হাদিসে এসেছে। সালমান ফারসী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত (নামাজ) আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমা এবং পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৬৪)

এ ক্ষেত্রে জুমার দিনে ফজিলতও অনেক আমলও রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমল হলো- নবীজির (সা.) ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়া, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি। বিভিন্ন হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়াও জুমার দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে দোয়া করলে কবুল হয়।

তবে এর বাইরেও জুমার দিনে কিছু সুন্নত রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো জুমার দিনে ফজরের ওয়াক্তে সুরা সিজদা ও সুরা ইনসান তিলাওয়াত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে ফজরের নামাজে সুরা সিজদা এবং সুরা ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৭৪)

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

জুমাবারে ফজরের নামাজে নবীজি (সা.) যে ২ সুরা তিলাওয়াত করতেন

আপডেট সময় ১২:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। পবিত্র কুরআনে জুমা নামে একটি সুরাও রয়েছে। যেখানে মহান এই দিনের তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)।

এই দিনটিকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- সূর্য উদয়ের দিবসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। সে দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়। তাকে ওইদিন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। তাকে তা থেকে ওইদিন বের করা হয়। আর কেয়ামতও হবে জুমার দিবসেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫০)

এজন্য জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করে মিসওয়াক, সুগন্ধি ব্যবহারসহ উত্তম কাপড় পরিধান করে মসজিদে যাওয়ার কথাও অনেক হাদিসে এসেছে। সালমান ফারসী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত (নামাজ) আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমা এবং পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৬৪)

এ ক্ষেত্রে জুমার দিনে ফজিলতও অনেক আমলও রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমল হলো- নবীজির (সা.) ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়া, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি। বিভিন্ন হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়াও জুমার দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে দোয়া করলে কবুল হয়।

তবে এর বাইরেও জুমার দিনে কিছু সুন্নত রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো জুমার দিনে ফজরের ওয়াক্তে সুরা সিজদা ও সুরা ইনসান তিলাওয়াত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে ফজরের নামাজে সুরা সিজদা এবং সুরা ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৭৪)

বাংলা৭১নিউজ/জেএস