ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জ্বালানি সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার ম‌ধ্যে সম‌ঝোতা সই Logo ম্যাডক্সে ঢাক বাজালেন সৌরভ-রাজকুমার, জমজমাট ‘দাদা’র প্রচার Logo বাবা সিদ্দিকী খুন, সালমানকে হুমকি— এবার টাইগার কেন বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে? Logo দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বার্তা অভিনেত্রী মন্দিরার Logo সেরা রাঁধুনীর বিচারকের দায়িত্বে এবার পূর্ণিমার জায়গায় জয়া, কত টাকা পুরস্কার? Logo উৎসবের পর বাড়তি মেদ ঝরাতে উপকারী যেসব ভেষজ চা Logo গাজীপুরে গ্যাস লিকেজে দগ্ধ একই পরিবারের ৩ জন Logo ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যানসিটির বড় জয় Logo ব্যালন ডি’অরের সর্বকালের সেরার দৌড়ে এগিয়ে রোনালদো, ভোট দেবেন যেভাবে Logo ‘এমন দলকে হারানো সব সময়ই বিশেষ কিছু’— বার্সার জালে এক হালি দিয়ে এনরিকে

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যমুনায় চলছে ইলিশ শিকার, বাজারে বিক্রি

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার। নদী থেকে ধরা এসব ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসনের অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ ধরা ও বেচাকেনা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদীর দুর্গম মানিকদার, জামাথল, ডাকাতমারাসহ বিভিন্ন নৌঘাটে আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নদী থেকে ধরা এসব ইলিশ মাদারগঞ্জের আড়ত হয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় প্রজনন মৌসুমে মাছগুলো নদীর ভাটির অঞ্চল থেকে উজানে চলে আসে। ফলে বছরের এই সময়ে যমুনা নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। স্থানীয় জেলেরা কারেন্ট জাল ও ফাঁদ জাল ব্যবহার করে সহজেই এসব মাছ ধরছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন নৌঘাট ও নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সময়ে ধরা ইলিশ। রাতের আঁধারে মাদারগঞ্জের কয়েকজন চিহ্নিত মাছ ব্যবসায়ী এসব ইলিশ কিনে অন্য মাছের সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন। যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হওয়ার পরও ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে।

ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত মৎস্যজীবী রবিউল, হামিদুর ও কদ্দুস জানান, পেটের দায়ে তারা ইলিশ ধরে বিক্রি করেন। সরকারি সহায়তা সম্পর্কে তারা জানেন না বলেও দাবি করেন। মাছের আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন বলে জানান তারা।

মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “মাদারগঞ্জের সীমানার মধ্যে কোনো জেলে মাছ ধরলে এবং বিক্রি করলে ইলিশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ইলিশ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৬০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। মঙ্গলবার রাতে বালিজুড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পরে মাছগুলো দুটি এতিমখানায় দেওয়া হয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এ সময়ে ইলিশ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কয়েক দিন আগে যমুনা নদীতে মাদারগঞ্জের সীমানায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ ইলিশ ধরলে বা বিক্রি করলে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

জ্বালানি সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার ম‌ধ্যে সম‌ঝোতা সই

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যমুনায় চলছে ইলিশ শিকার, বাজারে বিক্রি

আপডেট সময় ১১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার। নদী থেকে ধরা এসব ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসনের অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ ধরা ও বেচাকেনা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদীর দুর্গম মানিকদার, জামাথল, ডাকাতমারাসহ বিভিন্ন নৌঘাটে আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নদী থেকে ধরা এসব ইলিশ মাদারগঞ্জের আড়ত হয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় প্রজনন মৌসুমে মাছগুলো নদীর ভাটির অঞ্চল থেকে উজানে চলে আসে। ফলে বছরের এই সময়ে যমুনা নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। স্থানীয় জেলেরা কারেন্ট জাল ও ফাঁদ জাল ব্যবহার করে সহজেই এসব মাছ ধরছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন নৌঘাট ও নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সময়ে ধরা ইলিশ। রাতের আঁধারে মাদারগঞ্জের কয়েকজন চিহ্নিত মাছ ব্যবসায়ী এসব ইলিশ কিনে অন্য মাছের সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন। যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হওয়ার পরও ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে।

ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত মৎস্যজীবী রবিউল, হামিদুর ও কদ্দুস জানান, পেটের দায়ে তারা ইলিশ ধরে বিক্রি করেন। সরকারি সহায়তা সম্পর্কে তারা জানেন না বলেও দাবি করেন। মাছের আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন বলে জানান তারা।

মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “মাদারগঞ্জের সীমানার মধ্যে কোনো জেলে মাছ ধরলে এবং বিক্রি করলে ইলিশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ইলিশ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৬০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। মঙ্গলবার রাতে বালিজুড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পরে মাছগুলো দুটি এতিমখানায় দেওয়া হয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এ সময়ে ইলিশ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কয়েক দিন আগে যমুনা নদীতে মাদারগঞ্জের সীমানায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ ইলিশ ধরলে বা বিক্রি করলে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ