ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেটফ্লিক্সে আগ্রহ হারাচ্ছেন দর্শক,এগিয়ে ইউটিউব

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একদিকে দর্শকদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে নেটফ্লিক্স, অন্যদিকে কম খরচে নির্মিত কনটেন্ট ও নির্মাতাদের তৈরি ভিডিওর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যাচ্ছে ইউটিউব।

এন পরিস্থিতিতে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা নেটফ্লিক্সের। তার আগে বিনিয়োগকারীরা জানতে চাইছেন, ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে কিভাবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে।

নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টেড সারানডোস সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত বাড়ছে না।

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরাসরি সম্প্রচারভিত্তিক অনুষ্ঠানকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছেন তিনি।

ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চাপে নেটফ্লিক্স

বিনোদন দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন নেটফ্লিক্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ও বড় বাজেটে নির্মিত ধারাবাহিক কিংবা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দর্শকেরা এখন ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে নির্মাতাদের তৈরি তুলনামূলক কম খরচের ভিডিওও দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকদের মোট দেখার সময়ের হিসাবে ইউটিউব নেটফ্লিক্সের প্রায় দ্বিগুণ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসেনের তথ্য।

ইউটিউবের এই অবস্থান স্ট্রিমিং বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরছে।

জেফারিজের হিসাব অনুযায়ী, নেটফ্লিক্সের একজন সদস্যের মাসিক গড় দেখার সময় ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬৬ ঘণ্টা ছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে ৪৯ ঘণ্টায় নেমেছে। অর্থাৎ, প্ল্যাটফর্মটিতে সদস্যদের দেখার সময় কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহক হারানোর হার বেড়েছে

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্সের গ্রাহক চলে যাওয়ার হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

আগের তিন প্রান্তিকের তুলনায় এই বৃদ্ধির গতি প্রায় দ্বিগুণ।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নেটফ্লিক্স অ্যাপের ডাউনলোডও ২০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সূচক দিয়ে সব অঞ্চলে নেটফ্লিক্সের দর্শক কমছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

এদিকে, লন্ডনভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এলএসইজির সংকলিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে নেটফ্লিক্সের আয় গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন ও সরাসরি সম্প্রচারে ভরসা

আয়ের উৎস বাড়াতে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে নেটফ্লিক্স। জেফারিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন থেকে আয় ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

খেলাধুলার সরাসরি সম্প্রচারও নেটফ্লিক্সের পরিকল্পনার অংশ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি স্পেন ও অ্যান্ডোরায় ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে। বড় ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে নতুন দর্শক আকর্ষণ এবং পুরোনো গ্রাহকদের ধরে রাখার সুযোগ দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের কর্মীসংখ্যা কমানো এবং কনটেন্ট বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের প্রায় ৬ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। দীর্ঘদিনের কনটেন্ট প্রধান বেলা বাজরিয়া চলে যাওয়ার পর সাবেক ডিজনি নির্বাহী পিটার রাইস দায়িত্ব নিয়েছেন।

নেটফ্লিক্সের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন কনটেন্ট তৈরি নয়; বরং দর্শকদের দেখার অভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো। তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে বোঝা যাবে, প্রতিযোগিতার এই বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নেটফ্লিক্স কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

নেটফ্লিক্সে আগ্রহ হারাচ্ছেন দর্শক,এগিয়ে ইউটিউব

আপডেট সময় ০৫:১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একদিকে দর্শকদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে নেটফ্লিক্স, অন্যদিকে কম খরচে নির্মিত কনটেন্ট ও নির্মাতাদের তৈরি ভিডিওর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যাচ্ছে ইউটিউব।

এন পরিস্থিতিতে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা নেটফ্লিক্সের। তার আগে বিনিয়োগকারীরা জানতে চাইছেন, ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে কিভাবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে।

নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টেড সারানডোস সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত বাড়ছে না।

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরাসরি সম্প্রচারভিত্তিক অনুষ্ঠানকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছেন তিনি।

ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চাপে নেটফ্লিক্স

বিনোদন দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন নেটফ্লিক্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ও বড় বাজেটে নির্মিত ধারাবাহিক কিংবা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দর্শকেরা এখন ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে নির্মাতাদের তৈরি তুলনামূলক কম খরচের ভিডিওও দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকদের মোট দেখার সময়ের হিসাবে ইউটিউব নেটফ্লিক্সের প্রায় দ্বিগুণ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসেনের তথ্য।

ইউটিউবের এই অবস্থান স্ট্রিমিং বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরছে।

জেফারিজের হিসাব অনুযায়ী, নেটফ্লিক্সের একজন সদস্যের মাসিক গড় দেখার সময় ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬৬ ঘণ্টা ছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে ৪৯ ঘণ্টায় নেমেছে। অর্থাৎ, প্ল্যাটফর্মটিতে সদস্যদের দেখার সময় কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহক হারানোর হার বেড়েছে

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্সের গ্রাহক চলে যাওয়ার হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

আগের তিন প্রান্তিকের তুলনায় এই বৃদ্ধির গতি প্রায় দ্বিগুণ।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নেটফ্লিক্স অ্যাপের ডাউনলোডও ২০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সূচক দিয়ে সব অঞ্চলে নেটফ্লিক্সের দর্শক কমছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

এদিকে, লন্ডনভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এলএসইজির সংকলিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে নেটফ্লিক্সের আয় গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন ও সরাসরি সম্প্রচারে ভরসা

আয়ের উৎস বাড়াতে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে নেটফ্লিক্স। জেফারিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন থেকে আয় ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

খেলাধুলার সরাসরি সম্প্রচারও নেটফ্লিক্সের পরিকল্পনার অংশ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি স্পেন ও অ্যান্ডোরায় ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে। বড় ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে নতুন দর্শক আকর্ষণ এবং পুরোনো গ্রাহকদের ধরে রাখার সুযোগ দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের কর্মীসংখ্যা কমানো এবং কনটেন্ট বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের প্রায় ৬ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। দীর্ঘদিনের কনটেন্ট প্রধান বেলা বাজরিয়া চলে যাওয়ার পর সাবেক ডিজনি নির্বাহী পিটার রাইস দায়িত্ব নিয়েছেন।

নেটফ্লিক্সের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন কনটেন্ট তৈরি নয়; বরং দর্শকদের দেখার অভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো। তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে বোঝা যাবে, প্রতিযোগিতার এই বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নেটফ্লিক্স কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ