ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। সোমবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বিবেচনা করে ম্যাখোঁ তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেন।
সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেন নুনেজ। এ সময় তিনি চলমান পরিস্থিতির জন্য নিজেকে দায়ী করেন।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনসেবা খাতের দুরবস্থা ও বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত মাসে বিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে।
বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। একটি টাউন হলে আগুন দেওয়া হয়, দোকানপাটে লুটপাট চলে এবং বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে নানা স্লোগান লেখা হয়।
শনিবারের বিক্ষোভের পরও ফ্রান্সে সহিংসতা থামেনি। রবিবার প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ শহরে নতুন করে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ মাঠে নামে।
প্যারিসে রোববার থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্যারিস, মার্সেই ও লিমোজ শহরের মেয়েরাও সমালোচনা করেছেন।
সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি মার্সেই সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের। কর্তৃপক্ষের দাবি, শনিবার সেখানে লুটপাটে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
তিনি বলেন, যারা প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এসব ঘটনা দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও লজ্জার সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সহিংসতায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে কয়েক শ মিলিয়ন ইউরোর ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















