হংকংয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) প্রস্তুতির মধ্যে আইনি বিরোধ মেটাতে আলোচনায় বসেছেন চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ মুনশটের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কম্পানিটির এক শেয়ারহোল্ডার ও তার বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনশটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াং ঝিলিন এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ঝাং ইউতাওয়ের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা এবং রিকারেন্টের ক্ষতির বিনিময়ে নিজেদের আর্থিকভাবে লাভবান করার অভিযোগ তুলেছে এআই সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিকারেন্ট ডট এআই এবং এর কয়েকজন বিনিয়োগকারী।
গত ১১ মার্চ মুনশটের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠানো রিকারেন্টের আইনজীবীদের একটি চিঠিতে এসব অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। চিঠিটি রয়টার্সের হাতে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।
ইয়াং ঝিলিন ও ঝাং ইউতাও ২০১৬ সালে রিকারেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০২৩ সালে তাঁরা মুনশট প্রতিষ্ঠা করেন। করপোরেট নথি অনুযায়ী, তাঁরা এখনো রিকারেন্টের মূল কম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এদিকে মুনশটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
ইয়াং এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
৭০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি
২০২৪ সাল থেকে হংকংয়ে সালিশি প্রক্রিয়ায় রয়েছে দুই পক্ষের বিরোধ। রিকারেন্টের অভিযোগ, তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ছাড়াই ইয়াং ও ঝাং মুনশট প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া এবং রিকারেন্টের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
আইনজীবীদের চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বড় ভাষা মডেলের (এলএলএম) গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত সার্ভার অনুমতি ছাড়াই রিকারেন্ট থেকে মুনশটের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঝাং ইউতাওয়ের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য মুছে ফেলা হয় বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে চিঠিতে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রিকারেন্ট ও এর বিনিয়োগকারীরা মুনশটের মূল শেয়ারের ১০ দশমিক ৫ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। মুনশট প্রতিষ্ঠার সময় রিকারেন্টকে কোম্পানিটির মূল শেয়ারের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট একজনের দাবি, গত জুনে ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে মুনশটের তহবিল সংগ্রহের ভিত্তিতে এই ক্ষতিপূরণের মূল্য ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
এ ছাড়া মুনশটের প্রেসিডেন্ট ঝাং ইউতংয়ের বিরুদ্ধেও পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন রিকারেন্ট ও এর বিনিয়োগকারীরা। আইনজীবীদের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২২ সালে রিকারেন্টের পরিচালকের পদ ছাড়ার পর ঝাং ইউতং মুনশটের উল্লেখযোগ্য শেয়ার পেয়েছিলেন, যা রিকারেন্টের শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। রয়টার্স এ দাবিও যাচাই করতে পারেনি।
২০২৪ সালে ইয়াং ঝিলিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, মুনশট প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রিকারেন্টের পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর সমঝোতা হয়েছিল। চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঝাং ইউতংয়ের পারিশ্রমিকও তাঁর পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
আইপিওতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বেইজিংভিত্তিক মুনশট চীনের এমন কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠানের একটি, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো কম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘কিমি’ এআই মডেলের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হংকংয়ে আইপিওর জন্য গোপনে আবেদন করেছে বলে গত সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল রয়টার্স।
মুনশটের ‘কিমি’ চ্যাটবট দীর্ঘ নথি বিশ্লেষণের সক্ষমতার জন্য পরিচিত। পরে কোডিং, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই পণ্যেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত জুলাইয়ে মুনশট ‘কিমি কে৩’ নামে ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারের একটি এআই মডেল উন্মোচন করে। কোম্পানিটির দাবি, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-ওয়েট এআই ব্যবস্থা এবং এর সক্ষমতা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর কাছাকাছি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, রিকারেন্টের সঙ্গে বিরোধের কারণে মুনশটের আইপিও পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে কম্পানিটির মালিকানা, পরিচালনব্যবস্থা ও তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিরোধ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























