ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা ও পর্যটক সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী Logo সৌদি আরবে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি Logo সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস Logo মোহাম্মদপুরে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৯টি ককটেল উদ্ধার Logo সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব নেবে দুদক Logo বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বেসরকারি পুঁজিতে জোর বিশ্বব্যাংকের Logo ইসরায়েলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হতাহত ২০ Logo ফটিকছড়িতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও অসচ্ছলদের আর্থিক সহায়তা Logo দেশের সিনেমা হলের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo চাকরি পেতে এআই জানা জরুরি, নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে টিসিএস

‘দুধের চেয়েও কম নিয়ন্ত্রিত এআই’, সতর্ক করলেন মাইক্রোসফট প্রধান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ধরনের নিয়মকানুন প্রয়োজন, তা এখনো যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ।

তাঁর মতে, এআইয়ের তুলনায় দুধ ও ওয়াশিং মেশিনের মতো নিত্যব্যবহার্য পণ্যের ওপরও বেশি কঠোর নিরাপত্তাবিধি কার্যকর রয়েছে।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এআইয়ের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নিয়ম চালুর আহ্বান জানান ব্র্যাড স্মিথ। তিনি বলেন, এআইয়ের কারণে কোনো ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আইনি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

নিরাপত্তাবিধির পার্থক্য বোঝাতে স্মিথ বলেন, ওয়াশিং মেশিনের ক্ষেত্রে এআইয়ের চেয়ে বেশি নিরাপত্তানিয়ম রয়েছে।

এমনকি দোকানে বিক্রি হওয়া প্রতিটি দুধের প্যাকেটও নিরাপত্তাবিধি ও পরিদর্শনের আওতায় থাকে।

তাঁর এই বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, এর ঝুঁকি মোকাবিলায় তত বেশি কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশে এআই নিয়ে আইন থাকলেও উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে আরও সমন্বিত নিয়মকানুন দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বিপজ্জনক আচরণ করলে বন্ধ করতে হবে এআই

ব্র্যাড স্মিথ এআই ব্যবস্থায় জরুরি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, কোনো এআই ব্যবস্থা অস্বাভাবিক বা বিপজ্জনক আচরণ শুরু করলে সেটিকে দ্রুত থামানো বা কার্যক্রম সীমিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের ব্যবস্থাকে সাধারণত ‘কিল সুইচ’ বলা হয়।

এ ছাড়া এআইয়ের কারণে কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে এবং এআই এজেন্টের কারণে তাদের ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটলে মানুষকে সে বিষয়ে জানাতে হবে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

স্মিথের ভাষায়, এআই একই সঙ্গে একটি ‘হাতিয়ার’ ও একটি ‘অস্ত্র’। তাই এর ব্যবহার ও সম্ভাব্য ক্ষতি—দুই দিক বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

এআই এজেন্ট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এআই এজেন্ট এমন একধরনের ব্যবস্থা, যা মানুষের সীমিত হস্তক্ষেপে ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এতে কাজের গতি বাড়লেও অপ্রত্যাশিত আচরণ, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শুধু ভুল সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়। শক্তিশালী এআই মডেল চুরি করে সেগুলো অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী জিওফ্রে আরভিং শক্তিশালী এআই মডেল চুরি করে নেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এআই একটি ওয়েবসাইটে কাজ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি অমীমাংসিত হত্যা মামলার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য জমা দিয়েছিল। তথ্যটি স্প্যাম হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তা পুলিশের তদন্তকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। ঘটনাটি এআই এজেন্টের ভুল তথ্য দেওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কঠোর নিয়ন্ত্রণের পথে যুক্তরাজ্য

উন্নত এআই মডেলের ওপর নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির এআইবিষয়ক মন্ত্রী কানিষ্ক নারায়ণ উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানাতে পারেন। একই সঙ্গে এ খাতে আরও কার্যকর তদারকির জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তুতিও চলছে।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলাও এআই ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সীমাবদ্ধতা যাচাই এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ১০ অক্টোবরের এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে মত দেন বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে জননিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাড স্মিথের মতে, শুধু স্বেচ্ছায় নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; এআইয়ের সক্ষমতা যত বাড়বে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তার মানদণ্ড, সাইবার সুরক্ষা ও আইনি জবাবদিহিও শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা ও পর্যটক সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

‘দুধের চেয়েও কম নিয়ন্ত্রিত এআই’, সতর্ক করলেন মাইক্রোসফট প্রধান

আপডেট সময় ০৭:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ধরনের নিয়মকানুন প্রয়োজন, তা এখনো যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ।

তাঁর মতে, এআইয়ের তুলনায় দুধ ও ওয়াশিং মেশিনের মতো নিত্যব্যবহার্য পণ্যের ওপরও বেশি কঠোর নিরাপত্তাবিধি কার্যকর রয়েছে।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এআইয়ের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নিয়ম চালুর আহ্বান জানান ব্র্যাড স্মিথ। তিনি বলেন, এআইয়ের কারণে কোনো ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আইনি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

নিরাপত্তাবিধির পার্থক্য বোঝাতে স্মিথ বলেন, ওয়াশিং মেশিনের ক্ষেত্রে এআইয়ের চেয়ে বেশি নিরাপত্তানিয়ম রয়েছে।

এমনকি দোকানে বিক্রি হওয়া প্রতিটি দুধের প্যাকেটও নিরাপত্তাবিধি ও পরিদর্শনের আওতায় থাকে।

তাঁর এই বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, এর ঝুঁকি মোকাবিলায় তত বেশি কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশে এআই নিয়ে আইন থাকলেও উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে আরও সমন্বিত নিয়মকানুন দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বিপজ্জনক আচরণ করলে বন্ধ করতে হবে এআই

ব্র্যাড স্মিথ এআই ব্যবস্থায় জরুরি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, কোনো এআই ব্যবস্থা অস্বাভাবিক বা বিপজ্জনক আচরণ শুরু করলে সেটিকে দ্রুত থামানো বা কার্যক্রম সীমিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের ব্যবস্থাকে সাধারণত ‘কিল সুইচ’ বলা হয়।

এ ছাড়া এআইয়ের কারণে কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে এবং এআই এজেন্টের কারণে তাদের ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটলে মানুষকে সে বিষয়ে জানাতে হবে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

স্মিথের ভাষায়, এআই একই সঙ্গে একটি ‘হাতিয়ার’ ও একটি ‘অস্ত্র’। তাই এর ব্যবহার ও সম্ভাব্য ক্ষতি—দুই দিক বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

এআই এজেন্ট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এআই এজেন্ট এমন একধরনের ব্যবস্থা, যা মানুষের সীমিত হস্তক্ষেপে ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এতে কাজের গতি বাড়লেও অপ্রত্যাশিত আচরণ, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শুধু ভুল সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়। শক্তিশালী এআই মডেল চুরি করে সেগুলো অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী জিওফ্রে আরভিং শক্তিশালী এআই মডেল চুরি করে নেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এআই একটি ওয়েবসাইটে কাজ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি অমীমাংসিত হত্যা মামলার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য জমা দিয়েছিল। তথ্যটি স্প্যাম হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তা পুলিশের তদন্তকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। ঘটনাটি এআই এজেন্টের ভুল তথ্য দেওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কঠোর নিয়ন্ত্রণের পথে যুক্তরাজ্য

উন্নত এআই মডেলের ওপর নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির এআইবিষয়ক মন্ত্রী কানিষ্ক নারায়ণ উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানাতে পারেন। একই সঙ্গে এ খাতে আরও কার্যকর তদারকির জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তুতিও চলছে।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলাও এআই ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সীমাবদ্ধতা যাচাই এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ১০ অক্টোবরের এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে মত দেন বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে জননিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাড স্মিথের মতে, শুধু স্বেচ্ছায় নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; এআইয়ের সক্ষমতা যত বাড়বে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তার মানদণ্ড, সাইবার সুরক্ষা ও আইনি জবাবদিহিও শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ