রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প জানান, অবিলম্বে এই জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও রাশিয়া সোমবার পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনে।
সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে বেশ কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এসবের মধ্যে জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে করে ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানি উচ্চমূল্য নিয়ে চাপে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে- কিয়েভ এবং মস্কো একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করার বিষয়ে রাজি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় সহযোগীরা একবারে হতবাক হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায় তারা। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও সরাসরি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রেমলিন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, মস্কো সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না; বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। পেসকভ বলেন, “ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চাই এবং তা অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।”
রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি করা। তবে রাশিয়া এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাময়িকভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বাংলা৭১নিউজ/আরকে




























