ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

এআই দিয়ে লেখা শনাক্ত করবে ওপেনএআইয়ের নতুন ফিচার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা এখন আর নতুন কিছু নয়। ব্লগ, ই-মেইল, প্রবন্ধ থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন এআই টুল।

কিন্তু এসব লেখা মানুষের তৈরি, নাকি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি, তা বোঝা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই সমস্যা মোকাবেলায় চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি কার্যকর হলে চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সের মতো এআই মডেলের মাধ্যমে তৈরি লেখায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত হবে। সাধারণভাবে লেখা পড়ার সময় এই চিহ্ন চোখে পড়বে না। তবে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ জন্য ‘টেক্সটগ্রেইন’ নামে একটি প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে এআইয়ের তৈরি লেখার শব্দ ও বাক্যবিন্যাসে বিশেষ পরিসংখ্যানগত সংকেত রাখা হবে। সাধারণ পাঠকের কাছে লেখাটি স্বাভাবিক মনে হলেও, নির্দিষ্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে লেখাটিতে জলছাপ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সুবিধাটি চালু হতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি লেখা ও অন্যান্য কনটেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

কোনো লেখা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হলে তা শনাক্ত করা গেলে পাঠক, প্রকাশক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে কনটেন্টের উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্র তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে সংবাদমাধ্যম, ব্লগ ও অনলাইন প্রকাশনার ক্ষেত্রেও এআই-নির্মিত লেখার পরিচয় জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অদৃশ্য জলছাপের মতো প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনের সঙ্গে সম্পর্ক কী?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে নির্দিষ্ট ধরনের এআই-নির্মিত ও পরিবর্তিত কনটেন্ট শনাক্ত করা এবং সেগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মের লক্ষ্য হলো, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন করা এবং তথ্যের উৎস বোঝার সুযোগ বাড়ানো।

চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার পরিকল্পনাকে সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি চালু হলেই এআই দিয়ে তৈরি সব লেখা শতভাগ নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। লেখার সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের ফলে শনাক্তকরণ কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব মিলিয়ে, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের পরিচয় শনাক্ত করার প্রযুক্তি উন্নয়নে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিটির নির্ভুলতা, প্রয়োগের পরিধি এবং পরিবর্তিত লেখার ক্ষেত্রেও সংকেত শনাক্ত করার সক্ষমতার ওপর।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সিডনির রাস্তায় গানে গানে শাবনূর-রবি চৌধুরী

এআই দিয়ে লেখা শনাক্ত করবে ওপেনএআইয়ের নতুন ফিচার

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা এখন আর নতুন কিছু নয়। ব্লগ, ই-মেইল, প্রবন্ধ থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন এআই টুল।

কিন্তু এসব লেখা মানুষের তৈরি, নাকি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি, তা বোঝা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই সমস্যা মোকাবেলায় চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি কার্যকর হলে চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সের মতো এআই মডেলের মাধ্যমে তৈরি লেখায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত হবে। সাধারণভাবে লেখা পড়ার সময় এই চিহ্ন চোখে পড়বে না। তবে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ জন্য ‘টেক্সটগ্রেইন’ নামে একটি প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে এআইয়ের তৈরি লেখার শব্দ ও বাক্যবিন্যাসে বিশেষ পরিসংখ্যানগত সংকেত রাখা হবে। সাধারণ পাঠকের কাছে লেখাটি স্বাভাবিক মনে হলেও, নির্দিষ্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে লেখাটিতে জলছাপ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সুবিধাটি চালু হতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি লেখা ও অন্যান্য কনটেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

কোনো লেখা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হলে তা শনাক্ত করা গেলে পাঠক, প্রকাশক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে কনটেন্টের উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্র তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে সংবাদমাধ্যম, ব্লগ ও অনলাইন প্রকাশনার ক্ষেত্রেও এআই-নির্মিত লেখার পরিচয় জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অদৃশ্য জলছাপের মতো প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনের সঙ্গে সম্পর্ক কী?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে নির্দিষ্ট ধরনের এআই-নির্মিত ও পরিবর্তিত কনটেন্ট শনাক্ত করা এবং সেগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মের লক্ষ্য হলো, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন করা এবং তথ্যের উৎস বোঝার সুযোগ বাড়ানো।

চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার পরিকল্পনাকে সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি চালু হলেই এআই দিয়ে তৈরি সব লেখা শতভাগ নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। লেখার সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের ফলে শনাক্তকরণ কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব মিলিয়ে, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের পরিচয় শনাক্ত করার প্রযুক্তি উন্নয়নে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিটির নির্ভুলতা, প্রয়োগের পরিধি এবং পরিবর্তিত লেখার ক্ষেত্রেও সংকেত শনাক্ত করার সক্ষমতার ওপর।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ