ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিমানবন্দরে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত Logo শুভ মহালয়া আগামীকাল Logo আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে আগুন Logo ‘স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে চায় সরকার’ Logo প্রকাশ্যে বিকাশ এজেন্টকে গুলি, ৩ কোটি টাকা লুট Logo বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ Logo হরমুজ নিয়ে আক্ষেপ, চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে এরদোয়ানের শঙ্কা Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার কঠোর নিন্দা জানাল বাংলাদেশ Logo আম্বানি-ইলন মাস্কের দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী

রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় যুক্তিতর্ক পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর

ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে অবহেলার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আটজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এদিন ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা না করে মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদেশ দেন একই আদালত।

মামলার অপর আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছে। এদিন তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আসামি মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকে পলাতক রয়েছে। অপর আসামিরা জামিনে আছেন। এদিন তাঁরা আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালে রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু শ্রমিক।

ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রাথমিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।

এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে ভবনটিতে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। ভবনটির নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

বিমানবন্দরে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় যুক্তিতর্ক পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর

আপডেট সময় ০১:১৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে অবহেলার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আটজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এদিন ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা না করে মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদেশ দেন একই আদালত।

মামলার অপর আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছে। এদিন তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আসামি মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকে পলাতক রয়েছে। অপর আসামিরা জামিনে আছেন। এদিন তাঁরা আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালে রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু শ্রমিক।

ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রাথমিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।

এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে ভবনটিতে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। ভবনটির নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস