জাম্বিয়া সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে জাম্বিয়ায় বাংলাদেশের অনারারি কনস্যুলেট প্রথমবারের মতো ডিপ্লোম্যাটিক ফান ফেয়ারে অংশগ্রহণ করে। অনারারি কনসাল এরশাদ হোসাইন রিপন শিকদারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত শনিবার জাম্বিয়ার লুসাকার শোগ্রাউন্ডস প্রাঙ্গণে ‘জাম্বিয়া আপনাকে আন্দোলিত করে : সংস্কৃতির সংযোগ ও ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ষষ্ঠ ডিপ্লোম্যাটিক ফান ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
জাম্বিয়া সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, সরকারি প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের এক প্রাণবন্ত উদযাপনে পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—জাম্বিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইভান্স মুহাঙ্গা। ৩০টিরও বেশি দূতাবাস, সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে মেলাটি পরিণত হয় সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়। ঐতিহ্যবাহী খাবার, সংগীত, নৃত্য, পোশাক ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতির সৌন্দর্য ও স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে।
বাংলাদেশের স্টলে দেশের ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকশিল্প, ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি, হস্তশিল্প, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং দর্শনীয় স্থাপনাগুলো বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয় দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রশংসা অর্জন করে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বর্ণিল ফ্যাশন প্যারেড, যেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত সমকালীন নকশাও প্রদর্শিত হয়। সংগীত, নৃত্য ও রঙিন পোশাকের এই উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রাণবন্ত রূপকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে।
ডিপ্লোম্যাটিক ফান ফেয়ারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বকে আরো গভীর করতে পারে।
এই আয়োজন বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























