ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

নাটোরের লালপুর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের প্রায় তিন বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষকের।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিলমারিয়া ইউনিয়নের বড়বাদকয়া মৌজায় ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শনে দেখা যায়, সবুজ ধানের ক্ষেতজুড়ে গাছগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় ধানগাছ মরে জমি বিবর্ণ হয়ে আছে। স্থানীয়রা বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় এমন ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। দেখে মনে হচ্ছে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহিমপুর গ্রামের কৃষক দাউদ ও মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে বড়বাদকয়া মৌজার ওই জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে আসছিলেন। জমিটির মালিকানা নিয়ে একই এলাকার সালাম ও তার লোকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এর আগেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি জমির ধান ভালোই ছিল।

কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা আমরা নিশ্চিত নই। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক।’

ভুক্তভোগী মোজাম্মেল অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সালাম, সেকেন্দারসহ তাদের সহযোগীরা আমাদের ক্ষতি করার উদ্দেশে জমির ধানে আগাছানাশক বিষ স্প্রে করে। এতে প্রায় তিন বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

আমরা এখন চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

তিনি আরো বলেন, এই জমির ফসলই আমাদের সংসারের প্রধান ভরসা। হঠাৎ করে এমন ক্ষতি হওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি কৃষিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় লালপুর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সেকেন্দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই জমি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছি। মোজাম্মেল প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ধানের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

আপডেট সময় ১১:০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের প্রায় তিন বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষকের।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিলমারিয়া ইউনিয়নের বড়বাদকয়া মৌজায় ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শনে দেখা যায়, সবুজ ধানের ক্ষেতজুড়ে গাছগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় ধানগাছ মরে জমি বিবর্ণ হয়ে আছে। স্থানীয়রা বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় এমন ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। দেখে মনে হচ্ছে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহিমপুর গ্রামের কৃষক দাউদ ও মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে বড়বাদকয়া মৌজার ওই জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে আসছিলেন। জমিটির মালিকানা নিয়ে একই এলাকার সালাম ও তার লোকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এর আগেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি জমির ধান ভালোই ছিল।

কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা আমরা নিশ্চিত নই। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক।’

ভুক্তভোগী মোজাম্মেল অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সালাম, সেকেন্দারসহ তাদের সহযোগীরা আমাদের ক্ষতি করার উদ্দেশে জমির ধানে আগাছানাশক বিষ স্প্রে করে। এতে প্রায় তিন বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

আমরা এখন চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

তিনি আরো বলেন, এই জমির ফসলই আমাদের সংসারের প্রধান ভরসা। হঠাৎ করে এমন ক্ষতি হওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি কৃষিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় লালপুর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সেকেন্দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই জমি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছি। মোজাম্মেল প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ