ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ Logo সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর গভীর শোক Logo আটক ৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ Logo সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকে পড়েছেন পর্যটকেরা Logo সৌদিতে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক প্রকাশ Logo মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির Logo ম্যানসিটি ম্যাচের আগে বড় জয় পিএসজির, শীর্ষে মোনাকো Logo স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার দিনও মাদকাসক্ত ছিলেন সুমন Logo মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ Logo মাটির কাজ শেষে রং-তুলির টান, প্রাণ পাচ্ছে প্রতিমা

বিশ্ব হৃদরোগ দিবস আজ: প্রতিরোধে জোর দেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এ বছর দিবসটির প্রচারে বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের বার্তা—‘হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট : ডোন্ট মিস এ বিট’। হৃদরোগের অনেক লক্ষণ সময়মতো শনাক্ত না হওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ‘তরুণদের উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বাজেট : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় আয়োজিত এ ওয়েবিনারের বক্তারা বলেন, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি হৃদরোগের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশে হৃদরোগের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেড় কোটির বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর দেশে যত মানুষের মৃত্যু হয়, তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। শুধু বয়স্কদের মধ্যে নয়, তরুণদের মধ্যেও উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর মধ্যে হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে নানা ঘাটতি।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় উচ্চরক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নার চালু করা হলেও বিভিন্ন উপজেলায় এসব কেন্দ্রে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও এক থেকে দুই মাসের বেশি চলার মতো ওষুধ মজুত নেই। আবার কোনো কোনো স্থানে রোগীদের এক মাসের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এতে নিয়মিত ওষুধনির্ভর দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগের কারণে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ হৃদরোগের কারণে ঘটে। ২০২৪ সালে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য উচ্চরক্তচাপ দায়ী।

‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। বর্ধিত বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চরক্তচাপের ওষুধে ব্যয় করা হলে উচ্চরক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উপজেলা পর্যায়ে ওষুধ সংকট
উপজেলা পর্যায়ে হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপের নিয়মিত চিকিৎসা নিয়েও সংকট রয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ) ডা. শামিম যোবায়ের বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোর ওষুধ কেনার জন্য এমএসআর (মেডিকেল সার্জিক্যাল রিকুইজিশন) ফান্ড ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

তার ভাষ্য, এমএসআর ফান্ডের পরিমাণ খুবই কম। এই অর্থ দিয়ে ইনডোর রোগীদের চিকিৎসাসহ উপজেলার অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পরিচালনা করতে হয়। ফলে এনসিডি কর্নারের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দরিদ্র রোগীদের বড় একটি অংশ সমস্যায় পড়বেন।

চিকিৎসাসেবা এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক
দেশে হৃদরোগের চিকিৎসাসেবার বড় অংশ এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশে আইসিইউ বেড রয়েছে প্রায় তিন হাজার। এর বেশির ভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক।

তিনি বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হলে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রোগীর চাপ
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও হৃদরোগের চিকিৎসায় রোগীর চাপের চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯০ জন। একই সময়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৪৪ জন।

এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৮৪১ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৫ হাজার ৫৫২ জন।

প্রতিরোধেই কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের চিকিৎসায় হাসপাতাল ও আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও জোর দিতে হবে। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধূমপান বর্জন, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

বিশ্ব হৃদরোগ দিবস আজ: প্রতিরোধে জোর দেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এ বছর দিবসটির প্রচারে বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের বার্তা—‘হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট : ডোন্ট মিস এ বিট’। হৃদরোগের অনেক লক্ষণ সময়মতো শনাক্ত না হওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ‘তরুণদের উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বাজেট : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় আয়োজিত এ ওয়েবিনারের বক্তারা বলেন, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি হৃদরোগের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশে হৃদরোগের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেড় কোটির বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর দেশে যত মানুষের মৃত্যু হয়, তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। শুধু বয়স্কদের মধ্যে নয়, তরুণদের মধ্যেও উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর মধ্যে হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে নানা ঘাটতি।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় উচ্চরক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নার চালু করা হলেও বিভিন্ন উপজেলায় এসব কেন্দ্রে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও এক থেকে দুই মাসের বেশি চলার মতো ওষুধ মজুত নেই। আবার কোনো কোনো স্থানে রোগীদের এক মাসের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এতে নিয়মিত ওষুধনির্ভর দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগের কারণে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ হৃদরোগের কারণে ঘটে। ২০২৪ সালে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য উচ্চরক্তচাপ দায়ী।

‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। বর্ধিত বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চরক্তচাপের ওষুধে ব্যয় করা হলে উচ্চরক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উপজেলা পর্যায়ে ওষুধ সংকট
উপজেলা পর্যায়ে হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপের নিয়মিত চিকিৎসা নিয়েও সংকট রয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ) ডা. শামিম যোবায়ের বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোর ওষুধ কেনার জন্য এমএসআর (মেডিকেল সার্জিক্যাল রিকুইজিশন) ফান্ড ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

তার ভাষ্য, এমএসআর ফান্ডের পরিমাণ খুবই কম। এই অর্থ দিয়ে ইনডোর রোগীদের চিকিৎসাসহ উপজেলার অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পরিচালনা করতে হয়। ফলে এনসিডি কর্নারের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দরিদ্র রোগীদের বড় একটি অংশ সমস্যায় পড়বেন।

চিকিৎসাসেবা এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক
দেশে হৃদরোগের চিকিৎসাসেবার বড় অংশ এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশে আইসিইউ বেড রয়েছে প্রায় তিন হাজার। এর বেশির ভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক।

তিনি বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হলে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রোগীর চাপ
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও হৃদরোগের চিকিৎসায় রোগীর চাপের চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯০ জন। একই সময়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৪৪ জন।

এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৮৪১ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৫ হাজার ৫৫২ জন।

প্রতিরোধেই কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের চিকিৎসায় হাসপাতাল ও আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও জোর দিতে হবে। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধূমপান বর্জন, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস