বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগর ও মিরপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় করা পৃথক দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্ত হওয়া মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্ত হওয়া মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একাধিক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে মিরপুর মডেল থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই শেরেবাংলানগর থানাধীন ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের সামনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামিদের হুকুমে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, পিস্তল, চায়নিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় এক আন্দোলনকারী দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে একাধিক বুলেট বের করা হয়।
এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট বিকেলে মিরপুর মডেল থানার কাছের প্রধান সড়কে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মিছিলে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, ছররা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় মইনুল ইসলাম তূর্যর নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে দুটি ঘটনাতেই সাবেক মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর সম্পৃক্ততা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে মিরপুর মডেল থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
দুটি মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ
























