বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ছয় বছরের শিশু মুসলিমার বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় পানের বরজের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মোল্লাহাট উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম শেখের মেয়ে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শেখ জাহাঙ্গীর (৫৫) এবং তার দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমান শেখকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ির আশপাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয় মুসলিমা। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা চারদিকে তল্লাশি শুরু করে।
এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা শেখ জাহাঙ্গীরের পানের বরজসংলগ্ন এলাকায় পলিথিন আবৃত একটি বস্তায় মোড়ানো শিশুর নিথর দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা পানের শেখ জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাকে হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে তারা সরাসরি জড়িত কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল।
হত্যার আসল কারণ ও পেছনের জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ চলছে।
তিনি আরো জানান, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন শান্ত। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























