নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ছয় দিন পার হলেও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রবেশ করতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মো. সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানের বিরোধিতা করে শনিবারও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ছিল গ্রাফিতি অঙ্কন, লাল কার্ড প্রদর্শন ও বিক্ষোভ মিছিল।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। উন্মুক্ত স্থানে আঁকা এসব গ্রাফিতিতে বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।
‘ফরমান জারি করে খোলা যায় দ্বার?’, ‘স্কাই ইজ আওয়ার লিমিট’, ‘উই আর ওয়ান’-এ ধরনের বার্তা গ্রাফিতিতে ফুটিয়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা।
পরে দুপুর ২টার দিকে চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের সামনে ‘লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে হাতে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘মানি না, মানবো না, অনলাইন ভিসি মানবো না’, ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ এবং ‘শিক্ষার্থীদের অপমান মানি না, মানবো না’ এসব স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনিযুক্ত উপাচার্য চুয়েটের চলমান আন্দোলনকে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীর আন্দোলন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমন বক্তব্যের প্রতিবাদেও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, ওই বক্তব্য আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও অংশগ্রহণকে খাটো করে দেখিয়েছে। এ বক্তব্যের প্রতিবাদেই শনিবারের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত উপচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে চুয়েটের সব শিক্ষক পূর্ণ কর্মবিরতিতে রয়েছেন। শুক্রবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও পূর্ণ কর্মবিরতিতে অবস্থান নিয়েছেন।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা টানা পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মো. সায়েমকে অপসারণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানও তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
এদিকে আন্দোলনকারীদের ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যেই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ছয় দিন পার হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শনিবার পর্যন্ত নবনিযুক্ত উপাচার্য চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























