ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘কারও গায়ে হাত দেইনি,আইন নিজের হাতে তুলে নেয় না যুবদল’ Logo প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে যুবককে মারধর, বাড়িতে আগুন Logo বনানীতে এফ আর টাওয়ারের পাশের বহুতল ভবনে আগুন Logo জাসদ কার্যালয় থেকে সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য আটক Logo প্রজ্ঞাপন জারির ৬ দিনেও চুয়েটে প্রবেশ করতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য Logo জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, অনেক নেতা-কর্মী আটক Logo নেতাদের ‘গৃহবন্দির’ অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘পারলে আমাকে থামান’ Logo যুবলীগ নেতা নিখিলের ভাই সুফলসহ দুজন কারাগারে Logo জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে Logo ভারতে ‘ভেজাল’ মদ পানে ১৯ জনের মৃত্যু

যুবলীগ নেতা নিখিলের ভাই সুফলসহ দুজন কারাগারে

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক মোতাহার হোসেন খান সুফলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সোহাগ সাইফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার আবু জাফর মোল্লা নামের আরো একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন।

আবেদনে বলা হয়ে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি সিট, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। ওই সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আবেদনে বলা হয়ে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দারুসসালাম ও শাহ আলী মাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিসংযোগের শিকার বাসটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুফলের হুকুম ও প্ররোচনা এবং অন্য আসামিদের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কেউ অর্থের জোগান, কেউ ষড়যন্ত্র এবং কেউ সরাসরি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজহারে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন ৬০ ফিট ভাঙ্গাব্রিজ এলাকা থেকে সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুফল যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক এবং মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। আবু জাফর যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সক্রিয় কর্মী।

সুফলের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্যও আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং মারামারিসহ বিভিন্ন ধারায় করা মামলা রয়েছে। একটি হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায়ও সুফল এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় আরো ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

‘কারও গায়ে হাত দেইনি,আইন নিজের হাতে তুলে নেয় না যুবদল’

যুবলীগ নেতা নিখিলের ভাই সুফলসহ দুজন কারাগারে

আপডেট সময় ০৬:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক মোতাহার হোসেন খান সুফলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সোহাগ সাইফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার আবু জাফর মোল্লা নামের আরো একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন।

আবেদনে বলা হয়ে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি সিট, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। ওই সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আবেদনে বলা হয়ে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দারুসসালাম ও শাহ আলী মাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিসংযোগের শিকার বাসটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুফলের হুকুম ও প্ররোচনা এবং অন্য আসামিদের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কেউ অর্থের জোগান, কেউ ষড়যন্ত্র এবং কেউ সরাসরি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজহারে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন ৬০ ফিট ভাঙ্গাব্রিজ এলাকা থেকে সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুফল যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক এবং মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। আবু জাফর যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সক্রিয় কর্মী।

সুফলের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্যও আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং মারামারিসহ বিভিন্ন ধারায় করা মামলা রয়েছে। একটি হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায়ও সুফল এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় আরো ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ