ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনিমেল কেয়ারের মালিক ও দুই চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ

অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা একটি পার্সিয়ান বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগে ঢাকার গুলশানের বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিক ও দুই চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়। শনিবার নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান। তার মাধ্যমে বিড়ালটির মালিক মো. আবিবুর রহমান নোটিশটি পাঠান।

নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের মালিক লাবন্য এবং প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়ের।

নোটিশে বলা হয়, ২০২০ সালের ১ মে জন্মের পর থেকে বিড়ালটির চিকিৎসা বিএসিসিতে করানো হচ্ছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিড়ালটি গর্ভবতী কি না পরীক্ষা করাতে সেখানে নেওয়া হয়। ডা. সোলাইমান হোসাইন পরীক্ষা করে বিড়ালটি অন্তঃসত্ত্বা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান।

তার মতে, বিড়ালটির গর্ভে দুই বা তার বেশি ছানা রয়েছে। পরে তিনি কিছু ওষুধও দেন।

নোটিশে আরো বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে বিড়ালটি দ্রুত শ্বাস নেওয়া, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, চোখ ভেজা এবং খাবার ও নড়াচড়ায় অনীহার লক্ষণ দেখা দেয়। বিষয়টি জানিয়ে বিড়ালটির মালিক বিএসিসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। সন্ধ্যায় বিড়ালের অসুস্থতার ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন তিনি।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডা. জুবায়ের ভিডিও কলে বিড়ালটির অবস্থা দেখেন। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি বিড়ালটির সন্তান হবে এবং এ জন্য পাশে কাপড় রেখে ঘর অন্ধকার করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে আবার ভিডিও পাঠিয়ে এবং ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। তখন ডা. জুবায়ের বিড়ালটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসতে বলেন।

নোটিশ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএসিসিতে নেওয়ার পর কিছু সময় অপেক্ষা করানো হয়। পরে ডা. শিরোপা বিড়ালটিকে অক্সিজেন দেন এবং একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সুস্থ হয়ে দাঁড়ালেও কয়েক মিনিট পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিড়ালটির মৃত্যু হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, ইনজেকশন দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণে না রেখে চিকিৎসা শুরু করায় বিড়ালটির মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসিসির মালিক লাবন্যের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষেয়ে আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে নোটিশ পাওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

এনিমেল কেয়ারের মালিক ও দুই চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেট সময় ১২:৫৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা একটি পার্সিয়ান বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগে ঢাকার গুলশানের বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিক ও দুই চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়। শনিবার নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান। তার মাধ্যমে বিড়ালটির মালিক মো. আবিবুর রহমান নোটিশটি পাঠান।

নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের মালিক লাবন্য এবং প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়ের।

নোটিশে বলা হয়, ২০২০ সালের ১ মে জন্মের পর থেকে বিড়ালটির চিকিৎসা বিএসিসিতে করানো হচ্ছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিড়ালটি গর্ভবতী কি না পরীক্ষা করাতে সেখানে নেওয়া হয়। ডা. সোলাইমান হোসাইন পরীক্ষা করে বিড়ালটি অন্তঃসত্ত্বা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান।

তার মতে, বিড়ালটির গর্ভে দুই বা তার বেশি ছানা রয়েছে। পরে তিনি কিছু ওষুধও দেন।

নোটিশে আরো বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে বিড়ালটি দ্রুত শ্বাস নেওয়া, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, চোখ ভেজা এবং খাবার ও নড়াচড়ায় অনীহার লক্ষণ দেখা দেয়। বিষয়টি জানিয়ে বিড়ালটির মালিক বিএসিসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। সন্ধ্যায় বিড়ালের অসুস্থতার ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন তিনি।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডা. জুবায়ের ভিডিও কলে বিড়ালটির অবস্থা দেখেন। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি বিড়ালটির সন্তান হবে এবং এ জন্য পাশে কাপড় রেখে ঘর অন্ধকার করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে আবার ভিডিও পাঠিয়ে এবং ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। তখন ডা. জুবায়ের বিড়ালটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসতে বলেন।

নোটিশ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএসিসিতে নেওয়ার পর কিছু সময় অপেক্ষা করানো হয়। পরে ডা. শিরোপা বিড়ালটিকে অক্সিজেন দেন এবং একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সুস্থ হয়ে দাঁড়ালেও কয়েক মিনিট পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিড়ালটির মৃত্যু হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, ইনজেকশন দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণে না রেখে চিকিৎসা শুরু করায় বিড়ালটির মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসিসির মালিক লাবন্যের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষেয়ে আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে নোটিশ পাওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ