ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত, শুক্রবার পর্যন্ত থাকবে বৃষ্টি Logo চুয়েটে তৃতীয় দিনের শাটডাউন, সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন Logo ঝালমুড়ি বিক্রেতার বিরুদ্ধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ Logo ‘রোনালদোর মতো বয়সে ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়’ Logo হাদি হত্যার আসামি ফয়সালের অবৈধ অর্থের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি Logo টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, কার্যসহকারী হাসমত বরখাস্ত Logo লক্ষ্মীপুরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ Logo অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড Logo জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিয়েছেন জুবাইদা রহমান

লক্ষ্মীপুরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর এম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ১০ বছর ৮ মাসে ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবের ৬ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩২ টাকার আয়-ব্যয়ে ব্যাপক অসংগতি পেয়ে আপত্তি এনেছে অডিট টিম।

মাদরাসার অভ্যন্তরীণ অডিটে কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ও অডিট আপত্তি আনা হলেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর আগেও ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও তাকে দায়মুক্তি দেয় পরিচালনা কমিটি। এ সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া এ মাদরাসাটিতে বর্তমানে দেড় হাজার শিক্ষার্থী ও অন্তত ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এটি চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলাতে ফলাফলে বিভিন্ন সময় প্রথম হয়েছে।

অডিট নেই ১১ বছর

প্রায় ১১ বছর ধরে মাদরাসাটিতে অডিট করা হচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে প্রেক্ষাপট বদলের পর মাদরাসার অধ্যক্ষ আজিজের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন।

পরে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ জমা দেন তারা। আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ এক বছরের বেশি সময় প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেননি। তবে পরে রাজনৈতিক একটি পক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতিষ্ঠানে তিনি যোগ দেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারির অভ্যন্তরীণ অডিট (২০১৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০টি খাতে অধ্যক্ষ আজিজের অনিয়ম ও অসঙ্গতির চিত্র। এতে ২৭টি খাতে আয়-ব্যয়ে ৬ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩২ টাকা আয়-ব্যয়ে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে যাতায়াত না করেও তিনি ৭৬ হাজার টাকা খরচ দেখিয়েছেন। একই ভাউচারে একাধিকবার খরচ দেখিয়ে নিয়েছেন ২৮ হাজার ৩০৮ টাকা।

এদিকে, ভাউচার পর্যালোচনায় ৪৮ লাখ ২ হাজার ৮০৪ টাকার আপত্তি পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষের সাধারণ তহবিলের অনুমোদনহীন যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাউচারে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬০২ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে করোনা মহামারিতে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও যাতায়াত ও আপ্যায়ন খাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৫২ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ও কোনো ভাউচার ছাড়াই বিভিন্ন কাজে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৩ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণে বোর্ড ফি হিসেবে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৪ টাকা আয় কম দেখানো হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া জামানত ও ২০২০ সালে ৬১ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া পরীক্ষা ফি ও কেন্দ্র ফি’র জন্য নেওয়া ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকার তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আজিজের বিরুদ্ধে। মাসিক বেতন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্ধকোটি টাকা আয় দেখানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ৭০৬ টাকা আদায়যোগ্য অডিট আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া ভাউচার জালিয়াতি, কোটি টাকার কর পরিশোধ না করা, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বেতন-ভাতা প্রায় ৩০ মাস পর্যন্ত বকেয়া থাকলেও বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের লাভ দেখানো হয়েছে। এদিকে, ছাত্রাবাসের ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন অধ্যক্ষ আজিজ। একই ছাত্রাবাস থেকে একসঙ্গে ৫০ মাসের সম্মানি দেখিয়ে হাতে ভাউচার লিখে এক লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত রশিদ না কেটে ব্যাংক থেকে উত্তোলন দেখিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৫ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা আয় না দেখিয়ে জেনারেল ফান্ড থেকে শিক্ষক ঋণ (পিএফ) ৭৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বিতরণবিহীন সরকারি টাকা কোষাগারে ফেরত না দেওয়াসহ দোকান ভাড়া ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আয়ের ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা কলামনার খাতায় তোলা হয়নি।

ইসলামী ও সোনালী ব্যাংক হিসাব বিররণী অনুযায়ী, ১ লাখ ১০ হাজার ৮০৫ টাকা আয় হলেও তা প্রদর্শন করা হয়নি। ৫ হাজার ৬১৬ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, বৃত্তি, ফ্রি, হাফ ফ্রি সুবিধা দেওয়া হয়। তবে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর কোনো তালিকা নেই প্রতিষ্ঠানে।

নৈমিত্তিক একান্ত আবশ্যক খরচের জন্য স্নাতকোত্তর স্তরের প্রতিষ্ঠান বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা নগদ হাতে রাখার বিধি রয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ ১০ বছর ৮ মাসে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্থলে ২ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪ টাকা নগদ হাতে রেখে খরচ করেছেন। তিনি আর্থিক বিধির কোনো তোয়াক্কা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি অনুদান বৃত্তি থেকে পাওয়া ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪৫ টাকা ট্রেজারি থেকে উত্তোলন দেখালেও কোনো ট্রেজারি কপি বা হিসাব বিবরণী (মেমো) পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র তিন জন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানে সরকারি আর্থিক বিধি মানা হচ্ছে না। ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় করলেও কার্যত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠান ৪৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হয়। অর্থ কমিটি থাকা সত্ত্বেও আয়-ব্যয়ের বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা করতে না পারা পরিচালনা কমিটিও এর দায় এড়াতে পারেন না।

অডিট প্রতিবেদন

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইয়্যেদ মো. আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবিরী আল মাদানী ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ অডিটের জন্য ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। পরে মাদরাসার অধ্যক্ষের পছন্দের একজন সহকারী অধ্যাপককে ওই কমিটির সদস্য অর্ন্তভুক্ত করা হয়। ওই কমিটি তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করলেও পরিচালনা কমিটির সভায় তা উপস্থাপন করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবেদনে মাদরাসা কমিটির গাফিলতির বিষয় উল্লেখ থাকায় সেটি প্রকাশ করা হয়নি। সবশেষ ১১ জুন ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে অডিট করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদরাসা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদারের কক্ষে গেলে এ প্রতিবেদককে দেখেই তিনি বলেন, ‘আমি তো আপনার কাছে যাওয়ার কথা। চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আমরা সংবাদ সম্মেলন, মামলা করব। এতে আপনার সহযোগিতা লাগবে।’

প্রতিষ্ঠানের একাধিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এগুলো বানোয়াট। এর বাইরে আমি কিছুই বলব না। আপনি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির কাছে জানেন।’

অনাস্থাও মেলেনি সমাধান

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০২৫ মাদরাসার শিক্ষক ও কর্মচারীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। এর প্রেক্ষিতে একই বছর ২৮ মে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু সেটিও আর প্রকাশ হয়নি।

নানা অনিয়ম

২০২৫ সালের মার্চে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন না করেই অধ্যক্ষের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া নিয়মিত সভা না করেই অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্নসময় সদস্যদের বাড়ি গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে এসেছেন। এরজন্য তিনি যাতায়াতের ভাউচার তৈরি করে টাকা নিয়েছেন।

রাহমাতুল আম ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এই মাদরাসার অধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি কোনো ধরনের এজিএম ছাড়াই অবৈধভাবে ওই ট্রাস্টের সেক্রেটারি পদও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ফলে ট্রাস্ট ও মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। আন্দোলনের মুখে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও পরবর্তীতে যোগ দিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন।

যাতায়াতের ভাউচার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০ বছরের বেশি ক্লাসচলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ ২৮ শতাংশ দিনে ঢাকা, কুমিল্লা ও রায়পুর শহরে ভ্রমণ করেছেন। ভাউচারে নির্বাচনী বন্ধের সময় মাদরাসার কাজে অন্যত্র যাতায়াত, সাধারণ ছুটির দিনেও যাতায়াত, শুক্রবারে কুমিল্লা যাতায়াত, এমনকি ঈদের ছুটির সময় ভ্রমণ দেখিয়ে অর্থ নিয়েছেন। এছাড়া অনেক ভাউচার দোকান থেকে খালি অবস্থায় এনে প্রতিষ্ঠানে বসে পূরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে মাদরাসার কর্মচারীদের।

ঋণ জালিয়াতি

২০২৩ সালে মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হাওলাদার শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বাক্ষর নকল করে জনতা ব্যাংকের রায়পুর শাখা থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অধ্যক্ষ ডকুমেন্ট সৃষ্টিতে তাকে সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে, ওই মাদরাসায় ভুয়া ছাত্রী শাখা চালুর অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। সেখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্লাস নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমপিও নীতিমালা অনুসরণ না করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান তারা।

ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইয়্যেদ মো. আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবিরী আল মাদানীকে কল করা হলে তার ছেলে সাইয়্যেদ আনাস হোসাইন বিন আনোয়ার হোসাইন ফোন ধরে জানান, তার বাবা অসুস্থ। ওই মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বক্তব্য দেবেন।

তিনি বলেন, ‘কিছু টুকটাক অনিয়ম হয়েছে। এজন্য তিনবারই অডিট করা হয়। তবে আগের অডিট কমিটিতে সমস্যা ছিল। সরকারি অডিট রিপোর্ট এখনো আসেনি, সেটা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মাদরাসার অভিযোগ পেয়ে একটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবিষয়ে প্রতিবেদন পেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ এলে নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট মাদরাসা কমিটি ও অধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে তা যাচাই-বাছাই করতে পরিচালনা কমিটি তদন্ত করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি

লক্ষ্মীপুরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর এম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ১০ বছর ৮ মাসে ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবের ৬ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩২ টাকার আয়-ব্যয়ে ব্যাপক অসংগতি পেয়ে আপত্তি এনেছে অডিট টিম।

মাদরাসার অভ্যন্তরীণ অডিটে কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ও অডিট আপত্তি আনা হলেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর আগেও ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও তাকে দায়মুক্তি দেয় পরিচালনা কমিটি। এ সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া এ মাদরাসাটিতে বর্তমানে দেড় হাজার শিক্ষার্থী ও অন্তত ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এটি চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলাতে ফলাফলে বিভিন্ন সময় প্রথম হয়েছে।

অডিট নেই ১১ বছর

প্রায় ১১ বছর ধরে মাদরাসাটিতে অডিট করা হচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে প্রেক্ষাপট বদলের পর মাদরাসার অধ্যক্ষ আজিজের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন।

পরে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ জমা দেন তারা। আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ এক বছরের বেশি সময় প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেননি। তবে পরে রাজনৈতিক একটি পক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতিষ্ঠানে তিনি যোগ দেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারির অভ্যন্তরীণ অডিট (২০১৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০টি খাতে অধ্যক্ষ আজিজের অনিয়ম ও অসঙ্গতির চিত্র। এতে ২৭টি খাতে আয়-ব্যয়ে ৬ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩২ টাকা আয়-ব্যয়ে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে যাতায়াত না করেও তিনি ৭৬ হাজার টাকা খরচ দেখিয়েছেন। একই ভাউচারে একাধিকবার খরচ দেখিয়ে নিয়েছেন ২৮ হাজার ৩০৮ টাকা।

এদিকে, ভাউচার পর্যালোচনায় ৪৮ লাখ ২ হাজার ৮০৪ টাকার আপত্তি পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষের সাধারণ তহবিলের অনুমোদনহীন যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাউচারে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬০২ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে করোনা মহামারিতে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও যাতায়াত ও আপ্যায়ন খাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৫২ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ও কোনো ভাউচার ছাড়াই বিভিন্ন কাজে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৩ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণে বোর্ড ফি হিসেবে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৪ টাকা আয় কম দেখানো হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া জামানত ও ২০২০ সালে ৬১ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া পরীক্ষা ফি ও কেন্দ্র ফি’র জন্য নেওয়া ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকার তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আজিজের বিরুদ্ধে। মাসিক বেতন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্ধকোটি টাকা আয় দেখানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ৭০৬ টাকা আদায়যোগ্য অডিট আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া ভাউচার জালিয়াতি, কোটি টাকার কর পরিশোধ না করা, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বেতন-ভাতা প্রায় ৩০ মাস পর্যন্ত বকেয়া থাকলেও বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের লাভ দেখানো হয়েছে। এদিকে, ছাত্রাবাসের ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন অধ্যক্ষ আজিজ। একই ছাত্রাবাস থেকে একসঙ্গে ৫০ মাসের সম্মানি দেখিয়ে হাতে ভাউচার লিখে এক লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত রশিদ না কেটে ব্যাংক থেকে উত্তোলন দেখিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৫ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা আয় না দেখিয়ে জেনারেল ফান্ড থেকে শিক্ষক ঋণ (পিএফ) ৭৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বিতরণবিহীন সরকারি টাকা কোষাগারে ফেরত না দেওয়াসহ দোকান ভাড়া ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আয়ের ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা কলামনার খাতায় তোলা হয়নি।

ইসলামী ও সোনালী ব্যাংক হিসাব বিররণী অনুযায়ী, ১ লাখ ১০ হাজার ৮০৫ টাকা আয় হলেও তা প্রদর্শন করা হয়নি। ৫ হাজার ৬১৬ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, বৃত্তি, ফ্রি, হাফ ফ্রি সুবিধা দেওয়া হয়। তবে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর কোনো তালিকা নেই প্রতিষ্ঠানে।

নৈমিত্তিক একান্ত আবশ্যক খরচের জন্য স্নাতকোত্তর স্তরের প্রতিষ্ঠান বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা নগদ হাতে রাখার বিধি রয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ ১০ বছর ৮ মাসে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্থলে ২ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪ টাকা নগদ হাতে রেখে খরচ করেছেন। তিনি আর্থিক বিধির কোনো তোয়াক্কা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি অনুদান বৃত্তি থেকে পাওয়া ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪৫ টাকা ট্রেজারি থেকে উত্তোলন দেখালেও কোনো ট্রেজারি কপি বা হিসাব বিবরণী (মেমো) পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র তিন জন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানে সরকারি আর্থিক বিধি মানা হচ্ছে না। ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় করলেও কার্যত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠান ৪৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হয়। অর্থ কমিটি থাকা সত্ত্বেও আয়-ব্যয়ের বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা করতে না পারা পরিচালনা কমিটিও এর দায় এড়াতে পারেন না।

অডিট প্রতিবেদন

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইয়্যেদ মো. আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবিরী আল মাদানী ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ অডিটের জন্য ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। পরে মাদরাসার অধ্যক্ষের পছন্দের একজন সহকারী অধ্যাপককে ওই কমিটির সদস্য অর্ন্তভুক্ত করা হয়। ওই কমিটি তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করলেও পরিচালনা কমিটির সভায় তা উপস্থাপন করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবেদনে মাদরাসা কমিটির গাফিলতির বিষয় উল্লেখ থাকায় সেটি প্রকাশ করা হয়নি। সবশেষ ১১ জুন ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে অডিট করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদরাসা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদারের কক্ষে গেলে এ প্রতিবেদককে দেখেই তিনি বলেন, ‘আমি তো আপনার কাছে যাওয়ার কথা। চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আমরা সংবাদ সম্মেলন, মামলা করব। এতে আপনার সহযোগিতা লাগবে।’

প্রতিষ্ঠানের একাধিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এগুলো বানোয়াট। এর বাইরে আমি কিছুই বলব না। আপনি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির কাছে জানেন।’

অনাস্থাও মেলেনি সমাধান

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০২৫ মাদরাসার শিক্ষক ও কর্মচারীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। এর প্রেক্ষিতে একই বছর ২৮ মে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু সেটিও আর প্রকাশ হয়নি।

নানা অনিয়ম

২০২৫ সালের মার্চে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন না করেই অধ্যক্ষের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া নিয়মিত সভা না করেই অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্নসময় সদস্যদের বাড়ি গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে এসেছেন। এরজন্য তিনি যাতায়াতের ভাউচার তৈরি করে টাকা নিয়েছেন।

রাহমাতুল আম ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এই মাদরাসার অধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি কোনো ধরনের এজিএম ছাড়াই অবৈধভাবে ওই ট্রাস্টের সেক্রেটারি পদও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ফলে ট্রাস্ট ও মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। আন্দোলনের মুখে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও পরবর্তীতে যোগ দিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন।

যাতায়াতের ভাউচার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০ বছরের বেশি ক্লাসচলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ ২৮ শতাংশ দিনে ঢাকা, কুমিল্লা ও রায়পুর শহরে ভ্রমণ করেছেন। ভাউচারে নির্বাচনী বন্ধের সময় মাদরাসার কাজে অন্যত্র যাতায়াত, সাধারণ ছুটির দিনেও যাতায়াত, শুক্রবারে কুমিল্লা যাতায়াত, এমনকি ঈদের ছুটির সময় ভ্রমণ দেখিয়ে অর্থ নিয়েছেন। এছাড়া অনেক ভাউচার দোকান থেকে খালি অবস্থায় এনে প্রতিষ্ঠানে বসে পূরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে মাদরাসার কর্মচারীদের।

ঋণ জালিয়াতি

২০২৩ সালে মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হাওলাদার শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বাক্ষর নকল করে জনতা ব্যাংকের রায়পুর শাখা থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অধ্যক্ষ ডকুমেন্ট সৃষ্টিতে তাকে সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে, ওই মাদরাসায় ভুয়া ছাত্রী শাখা চালুর অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। সেখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্লাস নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমপিও নীতিমালা অনুসরণ না করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান তারা।

ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইয়্যেদ মো. আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবিরী আল মাদানীকে কল করা হলে তার ছেলে সাইয়্যেদ আনাস হোসাইন বিন আনোয়ার হোসাইন ফোন ধরে জানান, তার বাবা অসুস্থ। ওই মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বক্তব্য দেবেন।

তিনি বলেন, ‘কিছু টুকটাক অনিয়ম হয়েছে। এজন্য তিনবারই অডিট করা হয়। তবে আগের অডিট কমিটিতে সমস্যা ছিল। সরকারি অডিট রিপোর্ট এখনো আসেনি, সেটা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মাদরাসার অভিযোগ পেয়ে একটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবিষয়ে প্রতিবেদন পেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ এলে নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট মাদরাসা কমিটি ও অধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে তা যাচাই-বাছাই করতে পরিচালনা কমিটি তদন্ত করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ