ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন রাত জাগলে স্মৃতিশক্তি ও মেজাজে প্রভাব পড়ে

ঘুম ও মস্তিষ্কের মধ্যে সম্পর্ক কী, কেন রাত জাগলে স্মৃতিশক্তি ও মেজাজে প্রভাব পড়ে

মধ্যরাত কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকাকে খুব সহজেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেন অনেকে। হতে পারে তা কাজের চাপের কারণে জেগে থাকা কিংবা বিনোদনমূলক কোনো কিছুর জন্য ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ রাখার কারণে জেগে থাকা। কিন্তু এই ঘুমের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যা স্মৃতিশক্তি ও মেজাজে প্রভাব ফেলে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্নায়ুবিশেষজ্ঞ ডা. লভ বংশল জানিয়েছেন―রাত জাগা সহজেই অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এটি শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যে প্রভা ফেলে। ঘুম কোনো অলস সময় নয়। এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, ঘুম আপনার মস্তিষ্কে তথ্য প্রক্রিয়া করে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যার কাজগুলোও সম্পন্ন করে থাকে।

ঘুমের অভাব স্থিরতাকে প্রভাবিত করে:
ডা. বংশলের মতে, নিয়মিত রাত জাগা বা রাতে দেরি করে ঘুমানোর প্রভাব সবার আগে একাগ্রতা বা স্থিরতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, মস্তিষ্ক যখন পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বোধ করে, তখন মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ার গতি শ্লথ হতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত কাজগুলো করার ক্ষেত্রে বেশি চেষ্টার প্রয়োজনও হয়। একইসঙ্গে একাধিক কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সিদ্ধান্ত নেয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ভালো ঘুমের ওপর নির্ভর করে স্মৃতিশক্তি:
এ বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করে বলেন, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনভর সংগৃহীত তথ্যগুলোকে প্রক্রিয়া করে এবং স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর করে। শিক্ষাগ্রহণ এবং কোনো কিছু মনে করার জন্য এই ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে ডা. বংশল বলেন, ঘুম কমে গেলে বা বারবার ব্যাঘাত ঘটলে স্মৃতিশক্তি প্রক্রিয়া বা সংরক্ষণ বিঘ্নিত হতে পারে। এ কারণে নতুন তথ্য মনে রাখা বা পরদিন তা দক্ষতার সঙ্গে মনে করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কম ঘুম কীভাবে মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে:
চিকিৎসকের ভাষ্যমতে―পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আবেগীয় প্রতিক্রিয়া বাড়ায় এবং দৈনন্দিন মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা হ্রাস করে। এমন বাজে ঘুমের লক্ষণগুলোর কারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ধৈর্য কমে যাওয়া ও চাপ সামলাতে সমস্যা হয়। ডা. বংশল সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাব দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতারও কারণ হতে পারে।

দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবের অন্যান্য প্রভাব:
ডা. বংশল উল্লেখ করেছেন, ঘুম ও মস্তিষ্কের দীর্ঘায়ুর মধ্যে সম্পর্কটি খুবই জটিল। ঘুম ও আমাদের জৈবিক ঘড়ি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায়, কোষের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করতে এবং বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ চিকিৎসক জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাবের প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ব্যক্তির বয়স, জীবনযাপনের ধরন ও যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী ঘুমানো। যা শরীরকে পুনরায় চাঙা হতে পর্যাপ্ত সময় দেয়। আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

কেন রাত জাগলে স্মৃতিশক্তি ও মেজাজে প্রভাব পড়ে

আপডেট সময় ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যরাত কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকাকে খুব সহজেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেন অনেকে। হতে পারে তা কাজের চাপের কারণে জেগে থাকা কিংবা বিনোদনমূলক কোনো কিছুর জন্য ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ রাখার কারণে জেগে থাকা। কিন্তু এই ঘুমের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যা স্মৃতিশক্তি ও মেজাজে প্রভাব ফেলে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্নায়ুবিশেষজ্ঞ ডা. লভ বংশল জানিয়েছেন―রাত জাগা সহজেই অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এটি শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যে প্রভা ফেলে। ঘুম কোনো অলস সময় নয়। এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, ঘুম আপনার মস্তিষ্কে তথ্য প্রক্রিয়া করে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যার কাজগুলোও সম্পন্ন করে থাকে।

ঘুমের অভাব স্থিরতাকে প্রভাবিত করে:
ডা. বংশলের মতে, নিয়মিত রাত জাগা বা রাতে দেরি করে ঘুমানোর প্রভাব সবার আগে একাগ্রতা বা স্থিরতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, মস্তিষ্ক যখন পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বোধ করে, তখন মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ার গতি শ্লথ হতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত কাজগুলো করার ক্ষেত্রে বেশি চেষ্টার প্রয়োজনও হয়। একইসঙ্গে একাধিক কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সিদ্ধান্ত নেয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ভালো ঘুমের ওপর নির্ভর করে স্মৃতিশক্তি:
এ বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করে বলেন, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনভর সংগৃহীত তথ্যগুলোকে প্রক্রিয়া করে এবং স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর করে। শিক্ষাগ্রহণ এবং কোনো কিছু মনে করার জন্য এই ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে ডা. বংশল বলেন, ঘুম কমে গেলে বা বারবার ব্যাঘাত ঘটলে স্মৃতিশক্তি প্রক্রিয়া বা সংরক্ষণ বিঘ্নিত হতে পারে। এ কারণে নতুন তথ্য মনে রাখা বা পরদিন তা দক্ষতার সঙ্গে মনে করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কম ঘুম কীভাবে মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে:
চিকিৎসকের ভাষ্যমতে―পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আবেগীয় প্রতিক্রিয়া বাড়ায় এবং দৈনন্দিন মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা হ্রাস করে। এমন বাজে ঘুমের লক্ষণগুলোর কারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ধৈর্য কমে যাওয়া ও চাপ সামলাতে সমস্যা হয়। ডা. বংশল সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাব দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতারও কারণ হতে পারে।

দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবের অন্যান্য প্রভাব:
ডা. বংশল উল্লেখ করেছেন, ঘুম ও মস্তিষ্কের দীর্ঘায়ুর মধ্যে সম্পর্কটি খুবই জটিল। ঘুম ও আমাদের জৈবিক ঘড়ি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায়, কোষের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করতে এবং বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ চিকিৎসক জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাবের প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ব্যক্তির বয়স, জীবনযাপনের ধরন ও যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী ঘুমানো। যা শরীরকে পুনরায় চাঙা হতে পর্যাপ্ত সময় দেয়। আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস