ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি Logo সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্যখাতের ওপর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি Logo দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠিতে মাটির দুর্গা Logo পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিষয়ে রুল Logo রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ মরিনহোকে সিমিওনে বললেন, ‘সীমা ছাড়াবেন না’ Logo এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন Logo নওগাঁয় ৪০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার Logo সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু Logo জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অমিত

দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠিতে মাটির দুর্গা

অবয়বগুলো গড়া মাটিতে। মাটির শরীরে একের পর এক দিয়াশলাই কাঠি।

পরপর দেড় লক্ষাধিক কাঠি বসানো। সঙ্গে লাগানো হয়েছে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। প্রত্যেকটি অংশে নিখুঁত মাপে বসানো সেসব কাঠি। এভাবে শিল্পীর হাতে গড়া হচ্ছে দেবী দুর্গার মূর্তি।

শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটি করেছে এই আয়োজন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মাটির অবয়বে দিয়াশলাই কাঠিতে তৈরি দুর্গা মূর্তি দেখতে সেখানে দর্শনার্থীর ভিড়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে মূর্তিতে রঙের কাজ করা হবে বলে জানান মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা কাকাই লাল সাহা।

প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, ২০২৩ সালে কলকাতায় গিয়ে এ ধরনের কাজ দেখেছিলেন তিনি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিমা গড়ার উদ্যোগ নেন তিনি। চারজন শিল্পী দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করছেন। কখনো কখনো রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

নবদ্বীপ সরকার আরো জানান, এবার শুধু সাতক্ষীরায় নয়, কুষ্টিয়াসহ চারটি স্থানে দুর্গা প্রতিমা গড়ার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। দিয়াশলাই কাঠির মাথায় থাকা বারুদের তেজস্ক্রিয়তা নষ্ট করতে এক ধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্রহ্মবাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ অমিত কুমার ঘোষ জানান, প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি। সঙ্গে লাগছে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। শুধু প্রতিমার কাজেই শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবার পূজার আয়োজনে তাদের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

অমিত কুমার আরো জানান, এ এলাকায় দুর্গা পূজার বয়স ২০০ বছরের বেশি যা চালু করেছিলেন জমিদার পশুপতি মিত্র।

ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির এই আয়োজন অবশ্য ব্রহ্মরাজপুরে নতুন নয়। গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিলেন দর্শনার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরো নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেয় পূজা উদযাপন কমিটি। তবে এই আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছ।

ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিমাটির দাহ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন ওঠায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব কুমার দত্ত, সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুর রহমান ও ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

প্রতিমা শিল্পী ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এর ট্রায়ালও করা হয়েছে।

শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ নয়, পূজা ঘিরে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও গ্রামের মানুষ, পূজা কমিটি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপদ পরিবেশে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, গত বছর জেলায় ৫৮৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার হবে ৫৯০টি মণ্ডপে।

বিশ্বনাথ বলেন, এবার মা আসছেন ঘোড়ায়, যাবেন নৌকায়। আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর মর্ত্যে আগমনের শুভ সূচনা হবে। ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব।

এরই মধ্যে মন্দির ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি

দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠিতে মাটির দুর্গা

আপডেট সময় ০৩:১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবয়বগুলো গড়া মাটিতে। মাটির শরীরে একের পর এক দিয়াশলাই কাঠি।

পরপর দেড় লক্ষাধিক কাঠি বসানো। সঙ্গে লাগানো হয়েছে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। প্রত্যেকটি অংশে নিখুঁত মাপে বসানো সেসব কাঠি। এভাবে শিল্পীর হাতে গড়া হচ্ছে দেবী দুর্গার মূর্তি।

শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটি করেছে এই আয়োজন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মাটির অবয়বে দিয়াশলাই কাঠিতে তৈরি দুর্গা মূর্তি দেখতে সেখানে দর্শনার্থীর ভিড়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে মূর্তিতে রঙের কাজ করা হবে বলে জানান মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা কাকাই লাল সাহা।

প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, ২০২৩ সালে কলকাতায় গিয়ে এ ধরনের কাজ দেখেছিলেন তিনি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিমা গড়ার উদ্যোগ নেন তিনি। চারজন শিল্পী দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করছেন। কখনো কখনো রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

নবদ্বীপ সরকার আরো জানান, এবার শুধু সাতক্ষীরায় নয়, কুষ্টিয়াসহ চারটি স্থানে দুর্গা প্রতিমা গড়ার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। দিয়াশলাই কাঠির মাথায় থাকা বারুদের তেজস্ক্রিয়তা নষ্ট করতে এক ধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্রহ্মবাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ অমিত কুমার ঘোষ জানান, প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি। সঙ্গে লাগছে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। শুধু প্রতিমার কাজেই শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবার পূজার আয়োজনে তাদের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

অমিত কুমার আরো জানান, এ এলাকায় দুর্গা পূজার বয়স ২০০ বছরের বেশি যা চালু করেছিলেন জমিদার পশুপতি মিত্র।

ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির এই আয়োজন অবশ্য ব্রহ্মরাজপুরে নতুন নয়। গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিলেন দর্শনার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরো নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেয় পূজা উদযাপন কমিটি। তবে এই আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছ।

ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিমাটির দাহ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন ওঠায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব কুমার দত্ত, সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুর রহমান ও ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

প্রতিমা শিল্পী ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এর ট্রায়ালও করা হয়েছে।

শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ নয়, পূজা ঘিরে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও গ্রামের মানুষ, পূজা কমিটি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপদ পরিবেশে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, গত বছর জেলায় ৫৮৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার হবে ৫৯০টি মণ্ডপে।

বিশ্বনাথ বলেন, এবার মা আসছেন ঘোড়ায়, যাবেন নৌকায়। আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর মর্ত্যে আগমনের শুভ সূচনা হবে। ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব।

এরই মধ্যে মন্দির ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ