ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ৩০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ন্যু ক্যাম্পে Logo ঝিনাইদহে নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ Logo হাসিনা-বেনজিরসহ পলাতক ৩০ আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ Logo মেসে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার Logo ইসরায়েলকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন Logo কৃতির পর এবার দিশার পোশাক নিয়ে তুমুল বিতর্ক Logo মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু Logo প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়েছিল আদানি : রিজভী Logo স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসেও কাটেনি জনবল সংকট Logo পাদোভায় ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা, সেবা নিলেন ৬ শতাধিক প্রবাসী

পাবনায় নিখোঁজের সাতদিন পর ডোবায় মিলল শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ

‎পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাতদিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার লাশটি বস্তার ভিতরে খণ্ডিত অবস্থায় ছিল।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর কয়েক টুকরো করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রেখেছিল দূর্বৃত্তরা।

‎নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে চলে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

‎একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

‎নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।

‎এরপর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি শিশু কলির বলে সনাক্ত করেন তার স্বজনরা। স্থানীয়দের ধারণা তাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে বন্তায় বন্দি করে এই ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

‎পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

‎শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল-তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

‎এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। আশা করছি খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

৩০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ন্যু ক্যাম্পে

পাবনায় নিখোঁজের সাতদিন পর ডোবায় মিলল শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ

আপডেট সময় ১২:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাতদিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার লাশটি বস্তার ভিতরে খণ্ডিত অবস্থায় ছিল।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর কয়েক টুকরো করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রেখেছিল দূর্বৃত্তরা।

‎নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে চলে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

‎একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

‎নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।

‎এরপর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি শিশু কলির বলে সনাক্ত করেন তার স্বজনরা। স্থানীয়দের ধারণা তাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে বন্তায় বন্দি করে এই ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

‎পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

‎শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল-তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

‎এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। আশা করছি খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ