ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে অন্ধত্ব, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাবে

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমোদন অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

এটি রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত করতে সক্ষম। এ উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধত্ব, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আইহেলথস্ক্রিন ইনকরপোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান বিজ্ঞানী ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সংযোগস্থলে কাজ করে আসছেন। তার নেতৃত্বে তৈরি আইপ্রেডিক্ট-ডিআর নামের স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থাটি নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পরিদর্শনের সময় রেফারযোগ্য ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত করতে পারে।

এতে তাৎক্ষণিক কোনো চক্ষুবিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এরমধ্যে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে রোগীদের রেটিনা পরীক্ষার জন্য চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হয়, কিন্তু গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক রোগী সেই রেফারেল সম্পন্ন করেন না।

ফলে রোগ নীরবে বাড়তে থাকে, যতক্ষণ না তা অপরিবর্তনীয় দৃষ্টিশক্তি হ্রাসে রূপ নেয়। আইপ্রেডিক্ট-ডিআর এ প্রচলিত ধারাকে বদলে দিতে সক্ষম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ এটি একই পরিদর্শনের সময় স্ক্রিনিং ফলাফল দিতে পারে।

এফডিএ অনুমোদনের পাশাপাশি প্রযুক্তিটি ইউরোপের সিই সার্টিফিকেশন, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ নিবন্ধন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (ডিওএইচ/এমওএইচএপি) অনুমোদন এবং অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিজিএ) অনুমোদনও পেয়েছে। এসব অনুমোদন বিশ্বের অন্যতম কঠোর মেডিকেল ডিভাইস নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণের প্রমাণ বহন করে বলে জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করা ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া পরবর্তীতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চক্ষুবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর আই রিসার্চ অস্ট্রেলিয়ায় (সিইআরএ) পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেন।

তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরওতেও কাজ করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে অনুষদ সদস্য, মাউন্ট সিনাই-এর ইকান স্কুল অব মেডিসিনে সহযোগী অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইপ্রেডিক্ট-ডিআর ছাড়াও ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (এএমডি) পূর্বাভাসে রেটিনা ইমেজিং ও জিনগত তথ্য একীভূত করার অন্যতম প্রথম এআই ব্যবস্থা তৈরি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) কর্তৃক তুলে ধরা হয়েছিল। তার নামে রয়েছে একশরও বেশি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রকাশনা, চারটি মার্কিন পেটেন্ট এবং প্রধান গবেষক হিসেবে এনআইএইচের স্মল বিজনেস ইনোভেশন রিসার্চ (এসবিআইআর) খাতে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান।

এ বিষয়ে ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের প্রকৃত মূল্য প্রকাশনা বা পেটেন্টের সংখ্যায় নয়। এটি কতজন মানুষের জীবন উন্নত করে তার ওপর নির্ভর করে। রোগ যত আগে শনাক্ত করা যায়, অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হওয়ার আগেই হস্তক্ষেপের সুযোগ তত বেশি থাকে।

আইহেলথস্ক্রিনের লক্ষ্য হলো, রোগীরা যেখানে স্বাস্থ্যসেবা নিন না কেন বিশ্বমানের একাডেমিক মেডিক্যাল সেন্টার থেকে শুরু করে গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পর্যন্ত সবার জন্য উন্নত রোগ স্ক্রিনিং সহজলভ্য করা। চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে এ প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি বলে জানিয়েছে কম্পানিটি।

তিনি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের জন্য এআইভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এটির লক্ষ্য রেটিনাকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি অ-আক্রমণাত্মক জানালা হিসেবে ব্যবহার করা।

দীর্ঘমেয়াদে ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্য, স্বয়ংক্রিয় এআই স্ক্রিনিং প্রযুক্তি যেন বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে বড় শহর পর্যন্ত সব জায়গায় সহজলভ্য হয়, যাতে ঐতিহাসিকভাবে বিশেষজ্ঞ সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীও আগেভাগে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পায়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বিশ্বজুড়ে অন্ধত্ব, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাবে

আপডেট সময় ১০:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমোদন অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

এটি রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত করতে সক্ষম। এ উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধত্ব, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আইহেলথস্ক্রিন ইনকরপোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান বিজ্ঞানী ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সংযোগস্থলে কাজ করে আসছেন। তার নেতৃত্বে তৈরি আইপ্রেডিক্ট-ডিআর নামের স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থাটি নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পরিদর্শনের সময় রেফারযোগ্য ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত করতে পারে।

এতে তাৎক্ষণিক কোনো চক্ষুবিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এরমধ্যে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে রোগীদের রেটিনা পরীক্ষার জন্য চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হয়, কিন্তু গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক রোগী সেই রেফারেল সম্পন্ন করেন না।

ফলে রোগ নীরবে বাড়তে থাকে, যতক্ষণ না তা অপরিবর্তনীয় দৃষ্টিশক্তি হ্রাসে রূপ নেয়। আইপ্রেডিক্ট-ডিআর এ প্রচলিত ধারাকে বদলে দিতে সক্ষম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ এটি একই পরিদর্শনের সময় স্ক্রিনিং ফলাফল দিতে পারে।

এফডিএ অনুমোদনের পাশাপাশি প্রযুক্তিটি ইউরোপের সিই সার্টিফিকেশন, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ নিবন্ধন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (ডিওএইচ/এমওএইচএপি) অনুমোদন এবং অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিজিএ) অনুমোদনও পেয়েছে। এসব অনুমোদন বিশ্বের অন্যতম কঠোর মেডিকেল ডিভাইস নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণের প্রমাণ বহন করে বলে জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করা ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া পরবর্তীতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চক্ষুবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর আই রিসার্চ অস্ট্রেলিয়ায় (সিইআরএ) পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেন।

তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরওতেও কাজ করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে অনুষদ সদস্য, মাউন্ট সিনাই-এর ইকান স্কুল অব মেডিসিনে সহযোগী অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইপ্রেডিক্ট-ডিআর ছাড়াও ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (এএমডি) পূর্বাভাসে রেটিনা ইমেজিং ও জিনগত তথ্য একীভূত করার অন্যতম প্রথম এআই ব্যবস্থা তৈরি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) কর্তৃক তুলে ধরা হয়েছিল। তার নামে রয়েছে একশরও বেশি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রকাশনা, চারটি মার্কিন পেটেন্ট এবং প্রধান গবেষক হিসেবে এনআইএইচের স্মল বিজনেস ইনোভেশন রিসার্চ (এসবিআইআর) খাতে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান।

এ বিষয়ে ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের প্রকৃত মূল্য প্রকাশনা বা পেটেন্টের সংখ্যায় নয়। এটি কতজন মানুষের জীবন উন্নত করে তার ওপর নির্ভর করে। রোগ যত আগে শনাক্ত করা যায়, অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হওয়ার আগেই হস্তক্ষেপের সুযোগ তত বেশি থাকে।

আইহেলথস্ক্রিনের লক্ষ্য হলো, রোগীরা যেখানে স্বাস্থ্যসেবা নিন না কেন বিশ্বমানের একাডেমিক মেডিক্যাল সেন্টার থেকে শুরু করে গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পর্যন্ত সবার জন্য উন্নত রোগ স্ক্রিনিং সহজলভ্য করা। চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে এ প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি বলে জানিয়েছে কম্পানিটি।

তিনি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের জন্য এআইভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এটির লক্ষ্য রেটিনাকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি অ-আক্রমণাত্মক জানালা হিসেবে ব্যবহার করা।

দীর্ঘমেয়াদে ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্য, স্বয়ংক্রিয় এআই স্ক্রিনিং প্রযুক্তি যেন বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে বড় শহর পর্যন্ত সব জায়গায় সহজলভ্য হয়, যাতে ঐতিহাসিকভাবে বিশেষজ্ঞ সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীও আগেভাগে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পায়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ