ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭২% কাজ শেষ, ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চাপ সামলানো এই এলাকায় যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।

২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বালি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, এসএমবিডি ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ছয়টি সার্ভিস লেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে দিন-রাত দুই শিফটে চলছে নির্মাণকাজ।

সাসেক-২-এর উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সরফরাজ হোসাইন বলেন, ২৪ ঘণ্টায় দুই শিফটে কাজ চলছে। প্রধান কাঠামোর নির্মাণকাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রকল্পটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, সার্ভের কাজে জিপিএস প্রযুক্তি এবং নির্মাণকাজের তদারকি ও মনিটরিংয়ের জন্য বিল্ডিং ইনফরমেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে যমুনা সেতুর সক্ষমতার আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের গতি বাড়ার পাশাপাশি কমবে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার সুফল পড়বে পণ্য পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দ্রুততম সময়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। এর ফলে পণ্যের দামও কমে আসতে পারে।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা হলে যানজটের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হবে।

৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কর্পোরেশন। প্রকল্পটি শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে গতি বাড়ার পাশাপাশি দেশের পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

৭২% কাজ শেষ, ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ

আপডেট সময় ১০:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চাপ সামলানো এই এলাকায় যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।

২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বালি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, এসএমবিডি ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ছয়টি সার্ভিস লেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে দিন-রাত দুই শিফটে চলছে নির্মাণকাজ।

সাসেক-২-এর উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সরফরাজ হোসাইন বলেন, ২৪ ঘণ্টায় দুই শিফটে কাজ চলছে। প্রধান কাঠামোর নির্মাণকাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রকল্পটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, সার্ভের কাজে জিপিএস প্রযুক্তি এবং নির্মাণকাজের তদারকি ও মনিটরিংয়ের জন্য বিল্ডিং ইনফরমেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে যমুনা সেতুর সক্ষমতার আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের গতি বাড়ার পাশাপাশি কমবে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার সুফল পড়বে পণ্য পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দ্রুততম সময়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। এর ফলে পণ্যের দামও কমে আসতে পারে।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা হলে যানজটের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হবে।

৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কর্পোরেশন। প্রকল্পটি শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে গতি বাড়ার পাশাপাশি দেশের পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ