ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে বর্তমানে জার্মান জায়ান্ট এফসি বায়ার্ন মিউনিখের অন্যতম প্রধান তারকা এবং নতুন আক্রমণের চাবিকাঠি হয়ে উঠেছেন। ক্লাবে আসার পর থেকেই নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি বায়ার্ন সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এবং ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই দলের নতুন “নায়ক” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বায়ার্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পায় এই ফরাসি উইঙ্গার। সেই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন চলতি মৌসুমের শুরুতেও। তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইউরোপ জুড়ে ক্রমবর্ধমান আলোড়ন সৃষ্টি করছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ পুনরায় শুরু হওয়ায়, অলিসে এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান তারকা হয়ে ওঠার সক্ষমতা ক্রমশই প্রদর্শন করছেন।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে বায়ার্নের এই আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছেন। প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি নিজের খেলাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর মাঠে ফিরে প্রভাব ফেলতে একদমই সময় নেননি ওলিসে। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের নতুন মৌসুমের প্রথম ট্রফি জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই উইঙ্গার।
ম্যাচটিতে ওলিসে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি অন্য একটি গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। তার এই খেলা ভক্তদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ঠিক কয়েক মাস আগেই কেন তিনি বায়ার্নের ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ বা মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রেখে বুন্দেসলিগায় ভিএফবি স্টুটগার্টের বিপক্ষে বায়ার্নের ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয়েও গোল করেন তিনি। তার এই বর্তমান ফর্ম এতটাই বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তাকে আটকে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। আগস্ট মাসে মাত্র দুটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেই ওলিসে দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্টের দেখা পান।
যা বায়ার্নকে ঠিক প্রত্যাশামতোই জয়ের মধ্য দিয়ে মৌসুম শুরু করতে সাহায্য করেছে। তাই মিউনিখের সমর্থকরা এখন তাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী।
মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর দ্রুততম সময়ে মানিয়ে নিয়ে ওলিসে ‘আগস্ট মাসে’র সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। ক্লাবের সমর্থকদের ভোটে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এই স্বীকৃতি লাভ করেন এই ফরাসি উইঙ্গার। তিনি সতীর্থ ন্যাথানিয়েল ব্রাউন এবং লুইস দিয়াজকে পেছনে ফেলে এই পুরস্কার জেতেন। এর আগে তিনি ক্লাবের ‘গোল অব দ্য মান্থ’ পুরস্কারও নিজের করে নেন।
বিশ্বমানের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সাধারণত গোল এবং অ্যাসিস্ট দিয়েই বিচার করা হয়। ওলিসে ক্রমান্বয়ে অত্যন্ত ধারাবাহিকতার সাথে এই দুটিই করে যাচ্ছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো জায়গায় এই ধরনের উন্নতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর ভাগ্য প্রায়শই হাতেগোনা কয়েকটি মুহূর্তের ওপর নির্ভর করে।
মিউনিখে ইতিমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম সেরা স্কোয়াড রয়েছে। সেই সমীকরণে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী এবং ফর্মে থাকা একজন ওলিসের সংযোজন প্রতিপক্ষের জন্য তাদের বিপদের মাত্রাকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























