ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান Logo হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে? Logo ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই’, ব্যালন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে Logo ট্রাম্পের সরাসরি সাহায্য মিলছে না, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোকাবিলায় সংকটে সৌদি যুবরাজ Logo শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার Logo একসময় বল পায়ে লড়াই, এখন তারা সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোচ Logo চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo ফেনীতে নিহত যুবদল নেতা ও অসহায় এক পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার Logo ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৩ জনকে বেছে নিলেন ডেম্বেলে

পায়রায় তীব্র ভাঙন, নিঃস্ব দেড় শতাধিক পরিবার

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম। ভাঙনে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সড়কে।

সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের কবলে পড়ে এরইমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। কোনো কোনো পরিবার ৮-১০ বার নতুন করে ঘর বেঁধেছে।

কিন্তু নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে সড়কের পাশে।

সূত্র জানায়, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুমকী উপজেলার আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সম্প্রতি সরেজমিন ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখার সময় কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা নিটুলী রানীর সঙ্গে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সম্প্রতি শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।

‘যাওয়ার জায়গা নেই’ উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা জাকির খান (৫০) বলেন, ‘কত মানুষ আইল, কত কতা কইলাম, কামের কাম কিছুই হইল না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।’

রিপন মাল (৩৭)-এর ভাষ্য, বাপ দাদাদের আমল থেকে এই গ্রামটি ভাঙছে।

এই বয়সে পাঁচছয়বার বসতঘর পাল্টাইছি। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়া বাসা ভাড়া করে থাকছি।

স্থানীয়রা বলছেন, এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপর প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় তাদের কোনো পরিবার জমি পায়নি।

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়সম্বল এখন কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে আমাদের ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

ইউএনও বলেন, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস

পায়রায় তীব্র ভাঙন, নিঃস্ব দেড় শতাধিক পরিবার

আপডেট সময় ০৩:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম। ভাঙনে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সড়কে।

সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের কবলে পড়ে এরইমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। কোনো কোনো পরিবার ৮-১০ বার নতুন করে ঘর বেঁধেছে।

কিন্তু নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে সড়কের পাশে।

সূত্র জানায়, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুমকী উপজেলার আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সম্প্রতি সরেজমিন ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখার সময় কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা নিটুলী রানীর সঙ্গে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সম্প্রতি শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।

‘যাওয়ার জায়গা নেই’ উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা জাকির খান (৫০) বলেন, ‘কত মানুষ আইল, কত কতা কইলাম, কামের কাম কিছুই হইল না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।’

রিপন মাল (৩৭)-এর ভাষ্য, বাপ দাদাদের আমল থেকে এই গ্রামটি ভাঙছে।

এই বয়সে পাঁচছয়বার বসতঘর পাল্টাইছি। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়া বাসা ভাড়া করে থাকছি।

স্থানীয়রা বলছেন, এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপর প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় তাদের কোনো পরিবার জমি পায়নি।

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়সম্বল এখন কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে আমাদের ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

ইউএনও বলেন, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ