বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নগরীর কাউনিয়ার মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুর পৌনে ২টায় স্বজন ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ বরিশাল প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসে হয়। প্রেস ক্লাবে মরদেহ নিয়ে আসার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মীরা। এ সময় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আকতার জাহান শিরিন।
বরিশাল প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। কখনো কারো সাথে খারাপ আচরণ করেননি। তিন বছর পূর্বে সমকাল থেকে চাকরি হারিয়েছেন এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, ‘আমি ছাত্ররাজনীতি থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিকে চিনি। তিনি একজন সৎ নিষ্ঠাবান ও কর্মপরায়ণ সাংবাদিক ছিলেন। তার ভেতরে এতটা চাপা কষ্ট ছিল তা আমরা কেউই বুঝিনি।’ তিনি সবাইকে পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শুক্রবার রাতে বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের ব্যুরো অফিস থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি সুইসাইড নোট। পুলক স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক সমকাল ও দৈনিক যুগান্তরে ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।
দৈনিক সমকালের বরিশাল অফিসপ্রধান সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, তাকে উল্লেখ করে পুলক চ্যাটার্জি একটি চিঠি লিখে গেছেন। সেখানে তিনি দৈনিক সমকাল পত্রিকায় পাওনা টাকা আদায় করে বৌদির হাতে দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি বিষয়টি অফিসকে অবহিত করেছি।
মৃত্যুর আগে পুলক চ্যাটার্জি তার স্ত্রী প্রিয়াংকাকে উল্লেখ করে লেখেন, ‘প্রিয়াঙ্কা আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতিকে (পুলক চ্যাটার্জির মেয়ে) দেখে রেখো এবং লেখাপড়া চালিয়ে যেও। দীপক (পুলক চ্যাটার্জির ভাই)-এর সাথে থেকো ও তোমাদের আগলে রাখবে।’
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসি আল মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলক চ্যাটার্জির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























