ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বিসাতো দো’ওরো’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রুবাইয়াত Logo ‘পেলে’ নামটি যেভাবে পেলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি Logo ডিএনসিসিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করবেন ১৫০০ স্বেচ্ছাসেবক Logo বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার Logo বাংলাদেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা প্রতিযোগিতার ট্রফি উন্মোচন Logo প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ ও উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ Logo শীতলক্ষ্যায় তলিয়ে যাওয়া একজনকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ ৪ Logo আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে পে-স্কেল, গেজেট প্রকাশ নিয়ে নতুন জটিলতা Logo আর্জেন্টিনার সাফল্যের নেপথ্যের কারিগরের বিদায়

অতিরিক্ত গরম তরল পানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে তিন গুণ: গবেষণা

অতিরিক্ত গরম চা বা কফি পান করার কারণে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ প্রকাশিত বিশ্বের বৃহত্তম এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, রোগের ঝুঁকি কমাতে চা বা কফি কিছুটা ঠান্ডা করে পান করা উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, পানীয়ের অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গরম পানীয় পানের অভ্যাস খাদ্যনালীর ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’ (এসসিসি) নামক ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তবে এটি খাদ্যনালীর অন্য রূপ ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’ (এসি)-র ঝুঁকি বাড়ায় না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. কেরেন পেপিয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ‘উষ্ণ’ পানীয়ের তুলনায় ‘অত্যন্ত গরম’ পানীয় পান করার ফলে এসসিসি ক্যান্সারের ঝুঁকি তিন গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পানীয়ের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দৈনিক ছয় কাপ বা তার বেশি গরম পানীয় পান করার ফলে এই ঝুঁকি শতকরা ৭১ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের ওপর টানা ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের পানীয় গ্রহণের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত স্ব-মূল্যায়নের তথ্যের মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত টানা হয়। এর আগে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গবেষণাতেও দেখা গিয়েছিল যে, ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার চা বা ‘মাতে’ পানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার গরম পানীয়কে মানবদেহের জন্য একটি ‘সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অতিরিক্ত উত্তাপ খাদ্যনালী বা পৌষ্টিকনালীর ভেতরের কোষের ক্ষতি করে এই ঝুঁকি তৈরি করে বলে ধারণা করা হয়।

গবেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে এসসিসি ক্যান্সারের প্রতি সাতটি ঘটনার মধ্যে অন্তত একটি এড়ানো সম্ভব হতো যদি মানুষ তাদের প্রিয় পানীয় অত্যন্ত গরম অবস্থায় পান না করে কিছুটা কম তাপমাত্রায় পান করতো। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-র স্বাস্থ্য তথ্য বিভাগের প্রধান ফিওনা ওসগুন পরামর্শ দেন যে, খুব গরম থাকা অবস্থায় পান না করে এটি কিছুটা সহনশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়। তবে ক্যাফে বা রেস্তোরাঁগুলোকে পানীয়ের তাপমাত্রা কমিয়ে পরিবেশন করার আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে এই সংস্থাটি।

অন্যদিকে, কুইন মেরী ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মলিকুলার ওরাল অনকোলজির অধ্যাপক মুই-টেক তে এই গবেষণার একটি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তাপমাত্রার অনুভূতি একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। যারা খুব বেশি গরম সহ্য করতে পারেন, তাদের মুখ ও খাদ্যনালীর সংবেদনশীলতায় কোনো জৈবিক পার্থক্য বা ঝুঁকি আছে কি না, তা কেবল আত্ম-প্রতিবেদিত তথ্যের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন।

সূত্র: গার্ডিয়ান

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বিসাতো দো’ওরো’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রুবাইয়াত

অতিরিক্ত গরম তরল পানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে তিন গুণ: গবেষণা

আপডেট সময় ১২:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অতিরিক্ত গরম চা বা কফি পান করার কারণে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ প্রকাশিত বিশ্বের বৃহত্তম এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, রোগের ঝুঁকি কমাতে চা বা কফি কিছুটা ঠান্ডা করে পান করা উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, পানীয়ের অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গরম পানীয় পানের অভ্যাস খাদ্যনালীর ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’ (এসসিসি) নামক ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তবে এটি খাদ্যনালীর অন্য রূপ ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’ (এসি)-র ঝুঁকি বাড়ায় না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. কেরেন পেপিয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ‘উষ্ণ’ পানীয়ের তুলনায় ‘অত্যন্ত গরম’ পানীয় পান করার ফলে এসসিসি ক্যান্সারের ঝুঁকি তিন গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পানীয়ের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দৈনিক ছয় কাপ বা তার বেশি গরম পানীয় পান করার ফলে এই ঝুঁকি শতকরা ৭১ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের ওপর টানা ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের পানীয় গ্রহণের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত স্ব-মূল্যায়নের তথ্যের মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত টানা হয়। এর আগে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গবেষণাতেও দেখা গিয়েছিল যে, ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার চা বা ‘মাতে’ পানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার গরম পানীয়কে মানবদেহের জন্য একটি ‘সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অতিরিক্ত উত্তাপ খাদ্যনালী বা পৌষ্টিকনালীর ভেতরের কোষের ক্ষতি করে এই ঝুঁকি তৈরি করে বলে ধারণা করা হয়।

গবেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে এসসিসি ক্যান্সারের প্রতি সাতটি ঘটনার মধ্যে অন্তত একটি এড়ানো সম্ভব হতো যদি মানুষ তাদের প্রিয় পানীয় অত্যন্ত গরম অবস্থায় পান না করে কিছুটা কম তাপমাত্রায় পান করতো। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-র স্বাস্থ্য তথ্য বিভাগের প্রধান ফিওনা ওসগুন পরামর্শ দেন যে, খুব গরম থাকা অবস্থায় পান না করে এটি কিছুটা সহনশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়। তবে ক্যাফে বা রেস্তোরাঁগুলোকে পানীয়ের তাপমাত্রা কমিয়ে পরিবেশন করার আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে এই সংস্থাটি।

অন্যদিকে, কুইন মেরী ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মলিকুলার ওরাল অনকোলজির অধ্যাপক মুই-টেক তে এই গবেষণার একটি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তাপমাত্রার অনুভূতি একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। যারা খুব বেশি গরম সহ্য করতে পারেন, তাদের মুখ ও খাদ্যনালীর সংবেদনশীলতায় কোনো জৈবিক পার্থক্য বা ঝুঁকি আছে কি না, তা কেবল আত্ম-প্রতিবেদিত তথ্যের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন।

সূত্র: গার্ডিয়ান

বাংলা৭১নিউজ/জেএস