প্রথমবারই ভেনিস জয় করল বাংলাদেশ। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো জয় করল রুবাইয়াত হোসাইনের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।
উৎসবের পর্দা নামছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। অরিজোন্তি বিভাগসহ উৎসবের প্রতিযোগিতামুলক সকল বিভাগের সেরা চলচ্চিত্রের নামও ঘোষণা হবে সমাপণী দিনে। তার আগেই ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে ঝুলি ভরল সিনেমাটি।
চলতি বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এই স্বীকৃতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল চলচ্চিত্রটি।
সমকালীন ঢাকাকে পটভূমি করে নির্মিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর গল্প জাইনিনকে ঘিরে। এক তরুণী, যিনি বিয়ের প্রস্তুতি ও সৌন্দর্য চর্চার নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেতে গিয়ে আবিষ্কার করেন, তার শরীরই হয়ে উঠছে এক অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ক্ষেত্র। নারীবাদী ফোক হরর, বডি হরর ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি অনুসন্ধান করে কীভাবে নারীর শরীর পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তি প্রসঙ্গে রুবাইয়াত হোসাইন বলেন, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ খুবই অন্তরঙ্গ একটি জায়গা থেকে নির্মাণ করেছি। নারীরা কীভাবে নিজেদের শরীরকে ধারণ করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কখনো কখনো নিজেদের শরীরকেই ভয় করতে শেখে, সেই ভাবনা থেকে। ভেনিসের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকসদের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য গভীরভাবে অর্থবহ। আমি চাই, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শক বাংলাদেশকে শুধু তার সামাজিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নয়, বরং তার কল্পনা, লোককথা, অন্ধকার এবং সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েও আবিষ্কার করুক।’
‘বিসাতো দ’ওরো’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে দেওয়া একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড। এই স্বীকৃতি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’কে এ বছরের ভেনিস উৎসবের চলচ্চিত্রগুলোকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক সমালোচনামূলক আলোচনার আরও বিস্তৃত পরিসরে যুক্ত করেছে।
ভেনিসে নির্বাচনের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সমালোচকরা দক্ষিণ এশিয়ার বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানকে নারীবাদী ফোক-হররের এক স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র ভাষায় রূপান্তরের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
ফ্রাঁসোয়া দার্তেমার প্রযোজিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও পর্তুগালের একটি আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনা। চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক বিক্রয় ও পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ‘ফিল্মস বুটিক’।
ভেনিসের পর ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ তার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উত্তর আমেরিকার প্রিমিয়ার।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















