এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো, নামটি শুনলে অনেকেরই চোখে পরিচিতির ছাপ পড়ে না। কিন্তু ‘পেলে’ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে এক অমর কিংবদন্তির ছবি। ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট, তিন বিশ্বকাপ জয়ী সেই মহান খেলোয়াড় যেভাবে এডসন থেকে হয়ে উঠেন শুধুই ‘পেলে’।
পেলে জন্মেছিলেন ব্রাজিলের ত্রেস কোরাসোয়েস শহরে। তার পুরো নাম ছিল এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। বাবা ডনদিনহো (আসল নাম জোয়াও রামোস দো নাসিমেন্তো) ছিলেন ফ্লুমিনেন্সের ফুটবলার। মায়ের নাম সেলেস্তে আরান্তেস। প্রথম নামটি বিজ্ঞানী টমাস এডিসনের অনুসরণে ‘এডিসন’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। পরে বাবা-মা ‘আই’ বাদ দিয়ে ‘এডসন’ করে নেন। জন্মসনদে টাইপিং ভুলের কারণে অনেক নথিতে অবশ্য ‘এডিসন’ লেখাও দেখা যায়।
কিন্তু বিখ্যাত ‘পেলে’ নামটি এসেছে সম্পূর্ণ অন্য পথে। ছোটবেলায় স্কুলে পেলে তার প্রিয় এক গোলরক্ষকের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। সেই গোলরক্ষক ছিলেন ‘বিলে’, যিনি পেলের বাবার সতীর্থ এবং ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলতেন। পেলে ‘বিলে’কে ভুল করে ‘পেলে’ বলে উচ্চারণ করতেন। সেই ভুল উচ্চারণই ধীরে ধীরে তার ডাকনাম হয়ে যায়।
বন্ধুরা তাকে এই নামে ডাকতে শুরু করে এবং একসময় তা স্থায়ী হয়ে ওঠে। পেলে নিজেও আত্মজীবনীতে লিখেছেন, এই নামের কোনো অর্থ তিনি জানতেন না। শৈশবের বন্ধুরাও জানত না। তবুও সেই ভুল উচ্চারণ আর থেমে থাকেনি। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে গোটা বিশ্ব এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোকে চিনেছে শুধু এক নামে পেলে।
মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি। তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবও শুধু তারই। কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ার আর অসাধারণ প্রতিভা তাকে ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় করে তুলেছিল। আর সেই কিংবদন্তির পরিচয় এখনো এক নামেই ধরা থাকে পেলে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















