৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের মহাকাব্যিক এক লড়াই। শেষ পর্যন্ত হাসলেন বেন শেল্টন।
ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় আজ রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে শেষ হয় মহাকাব্যিক। ৬-৭ (৫), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭) গেমে আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন শেল্টন। ম্যাচ পয়েন্টে ১৪৬ মাইল গতির দুর্দান্ত এক এইস মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা। পঞ্চম সেটের সপ্তম গেমে দুজনের পয়েন্ট ছিল সমান ১৪০-১৪০। শেল্টনের সার্ভে তখন চাপ তৈরি করেছিলেন আলকারাজ। কিন্তু কখনো লাফিয়ে উঠে, কখনো পিছিয়ে গিয়ে স্প্যানিশ তারকাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে সেই চাপ সামলে নেন শেল্টন।
শেষ পর্যন্ত ব্যবধানও ছিল খুব সামান্য। শেল্টন জিতেছেন মোট ১৬৯ পয়েন্ট, আলকারাজ ১৬৪। প্রথম সার্ভে পয়েন্ট জয়ের শতাংশেও কিছুটা এগিয়ে ছিলেন শেল্টন।
বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে। আলকারাজ করেছেন ৫৩টি আনফোর্সড এরর ও ৭টি ডাবল ফল্ট।
শেল্টনের আনফোর্সড এরর ছিল ৩৫টি।
এই ম্যাচের আগে শেল্টন কখনো বিশ্ব টেনিস র্যাংকিংয়ের শীর্ষ তিন খেলোয়াড়কে হারাতে পারেননি। আলকারাজের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচেও জয় ছিল না তার। ১৭ বারের চেষ্টায় অবশেষে শীর্ষ তিনে থাকা একজন খেলোয়াড়কে হারানোর স্বাদ পেলেন শেল্টন।
ইউএস ওপেন দিয়েই চার মাস পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরেছিলেন আলকারাজ। সাতবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী তারকাকে এবার বিদায় নিতে হলো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। শেষ সেটের একপর্যায়ে তাকে বেশ ক্লান্ত ও হতাশ দেখাচ্ছিল।
ম্যাচ শেষে শেল্টন বলেছেন, ‘এটাই (আলকারাজের ক্লান্তি) আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, এটাই আমাকে এই জয় এনে দিয়েছে।’ শেল্টন ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেই দর্শকদেরও, গভীর রাত পর্যন্ত গ্যালারিতে থেকে ‘ইউএসএ, ইউএসএ’ বলে তাকে সমর্থন দিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সেমিফাইনালে শেল্টনের প্রতিপক্ষ আরেক আমেরিকান ফ্রান্সেস টিয়াফো। এর অর্থ এবারের ইউএস ওপেনে নিশ্চিতভাবেই একজন আমেরিকান খেলোয়াড় ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























